জৈব সারের ব্যবহার বাড়ছে, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমছে
কৃষি খাতে রাসায়নিক সারের অপব্যবহার পরিবেশ ও মাটির স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে গত কয়েক বছরে জৈব সারের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কৃষকরা এখন রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন। জৈব সার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ফসলের উৎপাদন বাড়ায়।
জৈব সারের প্রকারভেদ
কৃষকরা প্রধানত তিন ধরনের জৈব সার ব্যবহার করছেন:
কম্পোস্ট সার: গোবর, খড়, পাতা ও আবর্জনা পচিয়ে তৈরি করা হয়। এটি মাটির গঠন উন্নত করে এবং পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়।ভার্মি কম্পোস্ট: কেঁচো দিয়ে জৈব বস্তু পচিয়ে তৈরি করা হয়। এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য।
সবুজ সার: ধানের পর ঢেঁকি, ধইঞ্চা, শনপাট ইত্যাদি ফসল চাষ করে জমিতে পচিয়ে তৈরি করা হয়। এটি নাইট্রোজেনের অভাব পূরণ করে।
জৈব সারের উপকারিতা
জৈব সার ব্যবহারের বহুমুখী উপকারিতা রয়েছে। প্রথমত, এটি মাটির অম্লত্ব ও ক্ষারত্বের ভারসাম্য রক্ষা করে। দ্বিতীয়ত, জৈব সার মাটির অণুজীবের কার্যকলাপ বৃদ্ধি করে। তৃতীয়ত, রাসায়নিক সারের তুলনায় জৈব সার কম খরচে তৈরি করা যায়। চতুর্থত, জৈব সার দীর্ঘমেয়াদে মাটির স্বাস্থ্য উন্নত করে। পঞ্চমত, জৈব সার ব্যবহারে উৎপাদিত ফসল স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ।
কৃষকদের অভিজ্ঞতা
কুষ্টিয়ার কৃষক মো. আব্দুল হাই বলেন, "আমি তিন বছর ধরে জৈব সার ব্যবহার করছি। প্রথমে ফলন কিছুটা কম ছিল, কিন্তু এখন জমির উর্বরতা বেড়ে যাওয়ায় ফলন ভালো হচ্ছে। খরচও আগের চেয়ে কম হয়েছে।"
সরকারি উদ্যোগ
সরকার জৈব সার ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করছে। জৈব সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ভর্তুকি ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের জৈব সার তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। জৈব পণ্যের জন্য আলাদা বাজার সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জৈব সারের ব্যবহার আরও বাড়াতে হলে কৃষকদের সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ জরুরি। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই কৃষির জন্য জৈব সার অপরিহার্য।