কাগজের নীতি আর মাঠের বাস্তবতা: রাজশাহী অঞ্চলে কৃষি নীতি বাস্তবায়নের চিত্র

পাঁচ জেলা ঘুরে দেখলাম, সরকারি নীতি কাগজে থাকলেও মাঠে পৌঁছাতে দেরি
ফয়সাল করিম শাহীন
ফয়সাল করিম শাহীন Columnist
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬; সন্ধ্যা ০৭টা ৩০ মিনিট
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬; বিকেল ০৪টা ৪৭ মিনিট

গত তিন বছরে রাজশাহী অঞ্চলের পাঁচটি জেলায় কৃষি নীতি নিয়ে কথা বলেছি শতাধিক কৃষকের সাথে। তাদের অধিকাংশের অভিযোগ একটাই—সরকারি নীতি কাগজে অনেক চমৎকার, কিন্তু মাঠে সেগুলো পৌঁছাতে দেরি হয়। কৃষি বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে, ভর্তুকির অঙ্ক বাড়ছে, নতুন নতুন প্রকল্প যোগ হচ্ছে। কিন্তু এই সব কিছু যখন কৃষকের হাতে পৌঁছায়, তখন অনেকটা সময় পেরিয়ে যায়।


রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষক মো. আব্দুল মতিন বললেন, সরকার বলেছে, কৃষি যন্ত্রপাতিতে ৫০% ভর্তুকি দেওয়া হবে। আমি ট্রাক্টর কেনার জন্য আবেদন করেছি। এখন ছয় মাস হয়ে গেল, টাকা এখনো পাইনি। এদিকে আমার প্রতিবেশী ট্রাক্টর কিনে জমি চাষ করছে।


শুধু আব্দুল মতিন নন, নওগাঁর কৃষক মো. শাহিনুর ইসলামের অভিযোগ, সরকারি প্রণোদনার খবর পাই সংবাদপত্রে পড়ে। কৃষি অফিস থেকে কখনো সরাসরি জানানো হয় না। ফলে অনেক প্রণোদনার খবরই আমরা পাই না।


আমার দেখা, কৃষি নীতি বাস্তবায়নে তিনটি বড় সমস্যা আছে। প্রথমত, তথ্য কৃষকের কাছে সহজ ও সরল ভাষায় পৌঁছে না। দ্বিতীয়ত, আবেদন প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ। তৃতীয়ত, ভর্তুকি ও প্রণোদনা কৃষকের হাতে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়।


আমি মনে করি, সরকারের উচিত কৃষি নীতি বাস্তবায়নে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করা। কৃষক যেন মোবাইল ফোন দিয়েই ভর্তুকির আবেদন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, উপজেলা কৃষি অফিসগুলোকে আরও সক্রিয় করা। তারা যেন কৃষকদের সরাসরি খোঁজ-খবর রাখে এবং প্রণোদনার তথ্য সময়মতো পৌঁছে দেয়।


রাজশাহী অঞ্চলের কৃষির সম্ভাবনা অপরিসীম। সঠিক নীতি ও সঠিক বাস্তবায়ন হলে এই অঞ্চল দেশের খাদ্য ভাণ্ডার হয়ে উঠতে পারে। সরকারকে এখন সময়মতো নীতি বাস্তবায়নের দিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে।