গত এপ্রিল মাসে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় গিয়েছিলাম। চারদিক শুকনো। মাঠের পর মাঠ ফেটে চৌচির। ধানের চারা শুকিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছিল, যেন প্রকৃতির সাথে কৃষকের লড়াই শুরু হয়ে গেছে। তানোরের কৃষক মো. আবুল কালাম বললেন, তিন বছর আগেও এখানে নিয়মিত বৃষ্টি হতো। এখন সেই বৃষ্টি নেই। কৃষি অফিস বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। কিন্তু আমরা কী করব বুঝতে পারি না।
আবুল কালামের এই কষ্ট শুধু তানোরের নয়। গোদাগাড়ী, পুঠিয়া, নওগাঁর সাপাহার ও পোরশা উপজেলায় একই চিত্র। বরেন্দ্র অঞ্চলের এই অংশে দিন দিন পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। খরার প্রকোপ বাড়ছে। বৃষ্টি অনিয়মিত হচ্ছে। কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ছে, কিন্তু ফলন কমছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর গত দশ বছরে ১০-১৫ মিটার নিচে নেমে গেছে। এর অন্যতম কারণ অতিরিক্ত সেচ ও বৃষ্টির অভাবে পানি পুনঃসঞ্চয় না হওয়া। আর জলবায়ু পরিবর্তন এই সমস্যাকে আরও ভয়াবহ করেছে।
সরকার বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সেচ সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু কৃষকরা বলছেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হতে দেরি হচ্ছে। এদিকে প্রতি বছরই খরার প্রকোপ বাড়ছে।
আমার দেখা, এই অঞ্চলে টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে হলে তিনটি কাজ জরুরি। প্রথমত, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। ছোট ছোট পুকুর ও খাল খনন করে পানি ধরে রাখা সম্ভব। দ্বিতীয়ত, খরা সহনশীল ফসলের চাষ বাড়াতে হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলে ইতিমধ্যে বারি গম-২৫ ও বারি গম-২৮ জাতের গম চাষে সাফল্য এসেছে, এর ব্যাপক প্রসার প্রয়োজন। তৃতীয়ত, কৃষকদের খরা মোকাবিলার কৌশল প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
বরেন্দ্র অঞ্চলকে রক্ষা করতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিলম্ব হলে একসময় এই অঞ্চলের কৃষক খাদ্য উৎপাদনে ব্যর্থ হবেন।