শুধু ফসল উৎপাদনই নয়, কৃষি নির্ভর নানা উপায়ে কৃষকরা আয় বাড়াচ্ছেন। হাঁস-মুরগি পালন, মাছ চাষ, মৌ চাষ, নার্সারি ব্যবসা, সবজি চাষ, ফল বাগান, মাশরুম চাষ, পাটের তৈরি পণ্য ও হস্তশিল্পে সাফল্য পাচ্ছেন। বিকল্প আয়ের সুযোগ কৃষকদের জীবনমান উন্নত করছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে কৃষি নির্ভর বিকল্প আয়ের খাতে ২০ লাখ কৃষক যুক্ত হয়েছেন। এ খাতে মোট আয়ের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা। কৃষকদের গড় মাসিক আয় বেড়েছে ৫ হাজার টাকা।
হাঁস-মুরগি ও ডিম উৎপাদনে আয়
বেশিরভাগ কৃষক বাড়ির আঙিনায় হাঁস-মুরগি পালন করছেন। ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির পাশাপাশি দেশি মুরগি ও হাঁস পালন করে ডিম ও মাংস বিক্রি করছেন। একেকটি পরিবার মাসে ২-৫ হাজার টাকা আয় করছেন।
নারী কৃষক মোছা. জেসমিন বেগম বলেন, "আমি বাড়ির আঙিনায় ২০টি দেশি মুরগি পালন করি। মাসে ৩-৪ হাজার টাকার ডিম ও মাংস বিক্রি করি। পরিবারের খরচ চলে যায়।"
মাছ চাষে আয়
পুকুর ও জলাশয়ে মাছ চাষ করে কৃষকরা বাড়তি আয় করছেন। তেলাপিয়া, রুই, কাতলা ও চিংড়ি চাষ করে বাজারে বিক্রি করছেন। প্রতি পুকুর থেকে বছরে ২০-৫০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।
মৎস্য চাষি মো. শহীদুল্লাহ বলেন, "আমার পুকুরে তেলাপিয়া ও রুই মাছ চাষ করি। বছরে ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় হয়। মাছ চাষে খরচ কম লাভ বেশি।"
মৌ চাষ (এপিকালচার)
মৌ চাষ এখন কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হচ্ছে। একটি মৌ বাক্স থেকে বছরে ২০-৩০ কেজি মধু পাওয়া যায়। প্রতি কেজি মধু বিক্রি হয় ৩০০-৪০০ টাকা। ১০টি বাক্স থেকে বছরে ৬০-৮০ হাজার টাকা আয় হয়।
মৌ চাষি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "মৌ চাষ করতে খুব বেশি জমির দরকার হয় না। এতে লাভ ভালো হয়। মধু ও মোম বিক্রি করে বাড়তি আয় করছি।"
নার্সারি ও সবজি বাগান
অনেক কৃষক বাড়ির পাশে নার্সারি ও সবজি বাগান করছেন। ফলজ ও বনজ গাছের চারা, ফুলের চারা ও সবজির বীজ উৎপাদন করে বিক্রি করছেন। প্রতি নার্সারি থেকে মাসে ৫-১০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।
সবজি বাগান করে বাড়ির চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত সবজি বাজারে বিক্রি করছেন। মাসে ২-৩ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।
মাশরুম ও হস্তশিল্প চাষ
মাশরুম চাষ একটি লাভজনক ও স্বল্প পুঁজির ব্যবসা। একটি ঘরে মাশরুম চাষ করে মাসে ১০-১৫ হাজার টাকা আয় করা যায়। পাটের তৈরি ব্যাগ, মাদুর, ঝুড়ি ও হস্তশিল্প তৈরি করে বিক্রি করছেন কৃষকরা। বিশেষ করে নারীরা এ কাজে সফলতা পাচ্ছেন।
উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. নাজমুল হক বলেন, "কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট নানা উদ্যোগ কৃষকদের আয় বাড়াতে সাহায্য করছে। সরকার এসব উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দিচ্ছে। কৃষকদের এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।"




