বৃক্ষরোপণে সবুজায়ন উদ্যোগ সফল, কৃষি বনায়নে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে

সামাজিক বনায়ন, কৃষি বনায়ন ও ম্যানগ্রোভ বনায়নে ব্যাপক সাড়া
N. A. Noman
N. A. Noman Super Admin
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬; বিকেল ০৫টা ৫৩ মিনিট

বৃক্ষরোপণে সবুজায়ন উদ্যোগ সফল হয়েছে। সামাজিক বনায়ন, কৃষি বনায়ন ও ম্যানগ্রোভ বনায়নে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। কৃষি জমির আইলে ফলজ ও বনজ গাছ লাগিয়ে কৃষকরা বাড়তি আয় করছেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বনায়ন জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


বন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে ৫০ কোটি গাছ রোপণ করা হয়েছে। বনভূমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০%. সামাজিক বনায়নে ৫ লাখ কৃষক জড়িত।


সামাজিক বনায়ন উদ্যোগ

সরকারি জমিতে সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের আওতায় গাছ লাগানো হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা এসব গাছের দেখাশোনা করছেন। গাছ বিক্রির ৪৫% টাকা কৃষকরা পাচ্ছেন। এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন ও বনভূমি বাড়ছে।

দিনাজপুরের কৃষক মো. আব্দুল হান্নান বলেন, "সামাজিক বনায়নে মেহগনি, ইউক্যালিপটাস গাছ লাগিয়েছি। ১০ বছর পর গাছ বিক্রি করে ভালো টাকা পাব। এতে ফসলের সাথে বাড়তি আয় হবে।"


কৃষি বনায়ন পদ্ধতি

কৃষি বনায়ন পদ্ধতিতে কৃষি জমির আইলে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হচ্ছে। ফসলের পাশাপাশি গাছ থেকে ফল, কাঠ ও পাতা সার পাওয়া যায়। কৃষি বনায়নের ফলে কৃষকদের আয় বেড়েছে। পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা পাচ্ছে।


ম্যানগ্রোভ বনায়ন ও উপকূলীয় সুরক্ষা

উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনায়ন ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। সুন্দরবন ছাড়াও অন্যান্য উপকূলীয় এলাকায় কেওড়া, গেওয়া, বাইন ও সুন্দরী গাছ লাগানো হচ্ছে। ম্যানগ্রোভ বনায়ন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ও ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে।

একটি ম্যানগ্রোভ গাছ ১০ বছর বয়সে ৩০০০-৫০০০ টাকা মূল্যের কাঠ দেয়। এছাড়া ম্যানগ্রোভ বনায়নে মাছ ও চিংড়ির প্রজননক্ষেত্র তৈরি হয়, যা উপকূলীয় জেলেদের আয়ের পথ তৈরি করে।


বনায়নে নারীদের অংশগ্রহণ

বনায়ন ও সবুজায়ন উদ্যোগে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। তারা গাছের চারা তৈরি, রোপণ ও দেখাশোনায় কাজ করছেন। নারীরা নার্সারি ও সবুজায়নে উদ্যোক্তা হয়ে আত্মনির্ভর হচ্ছেন।


বনায়নের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব

বনায়নের ফলে কাঠ ও ফলের বাজার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের কাঠের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে। বনায়নের কারণে বায়ুদূষণ কমছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা সহজ হচ্ছে। পাখি ও জীববৈচিত্র্য ফিরে আসছে।

বনায়ন বিশেষজ্ঞ ড. মো. মতিউর রহমান বলেন, "বনায়নের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি কৃষকদের আয় বাড়ানো সম্ভব। সামাজিক ও কৃষি বনায়ন আরও সম্প্রসারণ করা জরুরি।"