ফুল চাষে কৃষকরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস ও অন্যান্য ফুলের চাষে লাভ ভালো। ফুলের বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে ফুল রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হচ্ছে। বার্ষিক ফুল উৎপাদনের মূল্য ৫ হাজার কোটি টাকা। ফুল চাষে ৫ লাখ কৃষক জড়িত। ফুলের বাজার মূল্য ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
গোলাপ ও গাঁদা ফুল চাষ
গোলাপ ফুলের চাহিদা সারাবছর থাকে। বিশেষ করে দিবস উপলক্ষে গোলাপের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। ডাচ রোজ ও লাল গোলাপের চাষ বেশি হয়। প্রতি শতাংশ জমিতে গোলাপ চাষে খরচ ১০-১৫ হাজার টাকা, বিক্রি হয় ৩০-৪০ হাজার টাকা। নিট মুনাফা ১৫-২৫ হাজার টাকা।
গাঁদা ফুল চাষ অত্যন্ত লাভজনক। ৬০-৭০ দিনেই ফুল সংগ্রহ করা যায়। গাঁদা ফুলের জোগান সারা বছর থাকে। ফুলের জামদানি ও মালা তৈরি করে বেশি দাম পাওয়া যায়।
ঝিনাইদহের ফুল চাষি মো. আবুল কালাম বলেন, "আমি ৫০ শতাংশ জমিতে গোলাপ ও গাঁদা ফুল চাষ করি। প্রতি মাসে ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় হয়। ফুল চাষে লাভ ভালো, পরিবারের খরচ চলে যায়।"
রজনীগন্ধা ও গ্লাডিওলাস চাষ
রজনীগন্ধা ফুলের ঘ্রাণ ও সৌন্দর্যের জন্য জনপ্রিয়। শীতকালে রজনীগন্ধার চাহিদা বেশি। প্রতি শতাংশ জমিতে রজনীগন্ধা চাষে খরচ ৮-১০ হাজার টাকা, বিক্রি হয় ২৫-৩০ হাজার টাকা।
গ্লাডিওলাস বাগানের ফুল হিসেবে পরিচিত। নানা রঙের গ্লাডিওলাস ফুল চাষ করা যায়। ফুলের ডাঁটা হিসেবে গ্লাডিওলাস বেশি দামে বিক্রি হয়। বিদেশি বাজারেও গ্লাডিওলাসের চাহিদা আছে।
ফুলের বাজার সম্প্রসারণ
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ফুলের পাইকারি বাজার গড়ে উঠেছে। শাহবাগ ফুল বাজার দেশের অন্যতম বড় পাইকারি ফুল বাজার। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফুল এসে পৌঁছায়। দিবস উপলক্ষে ফুলের চাহিদা বাড়ায় দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়।
ফুলের ব্যবসায়ী মো. ইমরান হোসেন বলেন, "প্রতি দিন শাহবাগ বাজারে কয়েক কোটি টাকার ফুল কেনাবেচা হয়। ফুলের চাহিদা বাড়ায় নতুন নতুন ব্যবসায়ী আসছেন। ফুল রপ্তানির সম্ভাবনাও আছে।"
ফুল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ডিজিটাল বিপণন
ফুল শুকানো, ফুলের পাপড়ি দিয়ে পাপড়ি ও রঙ তৈরি, ফুলের মালা ও তোড়া তৈরি করে বেশি দাম পাওয়া যায়। মোবাইল অ্যাপ ও ফেসবুকের মাধ্যমে অনলাইনে ফুল বিক্রি বাড়ছে। ক্রেতারা ঘরে বসেই অর্ডার করতে পারছেন।
সরকার ফুল চাষিদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দিচ্ছে। ফুল চাষে ভর্তুকি ও সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফুল রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



