নার্সারি ব্যবসায় কৃষকরা সফলতা পাচ্ছেন। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন করে ভালো লাভ করছেন। বিদেশি গাছের চারা ও বনসাইয়ের চাহিদা বাড়ছে। নার্সারি ব্যবসায় স্বল্প পুঁজিতে লাভ বেশি। কৃষকরা বাড়ির আঙিনায় নার্সারি গড়ে তুলছেন।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৫০ হাজার নিবন্ধিত নার্সারি আছে। এ খাতে ১০ লাখ কৃষক জড়িত। বার্ষিক চারা বিক্রির পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা। নার্সারি ব্যবসায় লাভের হার ৩০-৫০%।
ফলজ ও বনজ চারা উৎপাদন
আম, লিচু, কাঁঠাল, পেয়ারা, ড্রাগন ফলের চারা উৎপাদন করে বিক্রি করছেন কৃষকরা। একেকটি চারা বিক্রি হয় ৫০-২০০ টাকায়। মেহগনি, ইউক্যালিপটাস, রেইনট্রি, শিশু ও বহেরার বনজ চারা তৈরি করছেন। বনজ চারা সরকারি বনায়ন প্রকল্পে ব্যবহার হচ্ছে।
গাজীপুরের নার্সারি মালিক মো. আব্দুল মজিদ বলেন, "আমি ১০ বছর ধরে নার্সারি ব্যবসা করছি। আম, লিচু ও ড্রাগন ফলের চারা বিক্রি করে ভালো লাভ করছি। প্রতি মাসে ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় হয়।"
ঔষধি ও সাজসজ্জার গাছের চারা
অ্যালভেরা, স্টিভিয়া, অশ্বগন্ধা, থানকুনি, তুলসির মতো ঔষধি গাছের চারা তৈরি করে বিক্রি করছেন। সাজসজ্জার ফুল ও পাতাসহ ফার্ন, ক্যাকটাস, বনসাইয়ের চাহিদাও বাড়ছে। একটি উন্নত বনসাই বিক্রি হয় ১০০০-৫০০০ টাকা পর্যন্ত।
বাড়ির ছাদ ও বারান্দায় বাগান করার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও পাতাসহ গাছের চারা কিনছেন শহুরেরা।
জৈব পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন
কৃষকরা এখন জৈব পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করছেন। কম্পোস্ট সার ও জৈব কীটনাশক ব্যবহার করছেন। জৈব পদ্ধতিতে চারা বেশি মজবুত হয় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে। জৈব চারার দাম প্রচলিত চারার চেয়ে ২০-৩০% বেশি।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চারা বিপণন
নার্সারি মালিকরা অনলাইনে চারা বিক্রি করছেন। ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অর্ডার নিচ্ছেন। হোম ডেলিভারিও দেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিক্রি বাড়ায় লাভ বেড়েছে।
নার্সারি বিশেষজ্ঞ ড. মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, "নার্সারি ব্যবসায় ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার নার্সারি নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণে সহায়তা করছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।"



