দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিক ফল বাগান গড়ে উঠেছে। আম, লিচু, কাঁঠাল, পেয়ারা, ড্রাগন ফল ও স্ট্রবেরি চাষে কৃষকরা সফলতা পাচ্ছেন। বিদেশি ফলের চাহিদা বাড়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনা ও উচ্চফলনশীল জাত ব্যবহার করায় ফলন বাড়ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে ফল বাগানের পরিমাণ বেড়েছে ৪০%। ১০ লাখ হেক্টর জমিতে ফল চাষ হচ্ছে। বার্ষিক ফল উৎপাদন ১.৫ কোটি মেট্রিক টন। ফলের বাজারমূল্য ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
আম ও লিচুর বাণিজ্যিক বাগান
রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ অঞ্চলের আম বাগান এখন দেশে出名। হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি, আম্রপালি জাতের আম চাষ হচ্ছে। আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনায় ফলন বাড়ছে। আমের নতুন জাত ও আম প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ছে।
দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও অঞ্চলে লিচুর আবাদ ব্যাপক। বেদানা, চায়না-থ্রি, বোম্বাই জাতের লিচুর চাহিদা দেশের বাইরেও রয়েছে। লিচুর আচার, জুস ও প্রক্রিয়াজাত পণ্যের ব্যবসাও বাড়ছে।
রাজশাহীর কৃষক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "আমার ২ একর জমিতে আম বাগান আছে। এ বছর প্রায় ১৫ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছি। আধুনিক পদ্ধতিতে বাগান পরিচর্যা করায় ফলন বেশি পেয়েছি। লিচুর বাগান থেকেও লাভ ভালো হয়েছে।"
ড্রাগন ফল ও বিদেশি ফল চাষ
বিদেশি ফল ড্রাগন ফল এখন দেশের বিভিন্ন জেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। গাজীপুর, নরসিংদী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ড্রাগন ফল বাগান গড়ে উঠেছে। প্রতি বিঘা জমিতে ড্রাগন ফল চাষে খরচ হয় ১.৫-২ লাখ টাকা, ফলন পাওয়া যায় ২৫-৩০ হাজার পিস। ফলের বাজার মূল্য ৮০-১২০ টাকা পিস। বিঘাপ্রতি নিট মুনাফা দাঁড়ায় ১.৫-২ লাখ টাকা।
স্ট্রবেরি, মাল্টা, পীচ, এভোকাডো, রাম্বুটানের চাষও দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। শীত প্রধান অঞ্চলে স্ট্রবেরি চাষে সাফল্য পাওয়া গেছে।
পেয়ারা ও কাঁঠালের বাণিজ্যিক চাষ
পেয়ারা ও কাঁঠালের বাণিজ্যিক চাষেও সফলতা আসছে। বরিশাল অঞ্চলের পেয়ারা দেশের অন্যান্য জেলায় রপ্তানি হচ্ছে। কাঁঠালের নতুন জাত বারি কাঁঠাল-১ ও বারি কাঁঠাল-২ চাষ করছেন কৃষকরা। এই জাতগুলোতে আগের তুলনায় বেশি ফলন ও কম বীজ পাওয়া যায়।
বাগান ব্যবস্থাপনা ও ফল সংরক্ষণ
আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনার জন্য নিয়মিত গাছের ডাল ছাঁটাই, সার প্রয়োগ, পানি সেচ ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদামে ফল সংরক্ষণ করে সারা বছর বাজারে সরবরাহ করা যায়। ফলের প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
হর্টিকালচার বিশেষজ্ঞ ড. মো. আব্দুল্লাহ বলেন, "ফল বাগান ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিচর্যা না করলে ফলন ভালো হয় না। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।"



