গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কৃষি খাত দ্রুত বদলে যাচ্ছে। পাকা রাস্তা, বিদ্যুতায়ন ও ডিজিটাল সংযোগ কৃষি উৎপাদন ও বিপণন সহজ করেছে। কৃষকদের জীবনমান বাড়ছে। ফসল পরিবহন ও বিদ্যুতায়নে কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার বেড়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে গ্রামীণ এলাকায় ৫০ হাজার কিলোমিটার পাকা রাস্তা নির্মিত হয়েছে। ৯৫% গ্রাম এখন বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। ৬০% গ্রামে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছেছে।
গ্রামীণ সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন
পাকা রাস্তা নির্মাণের ফলে ফসল বাজারে পৌঁছাতে সময় কমেছে। পচনশীল সবজি ও ফল দ্রুত বাজারে পৌঁছানো যাচ্ছে। ফসলের অপচয় কমেছে ও কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন।
গাইবান্ধার কৃষক মো. আব্দুল লতিফ বলেন, "আগে কাঁচা রাস্তায় ফসল বাজারে আনতে অনেক সময় লাগত, সবজি নষ্ট হয়ে যেত। এখন পাকা রাস্তা হওয়ায় দ্রুত বাজারে পৌঁছাতে পারি। দামও ভালো পাই।"
বৈদ্যুতিক সংযোগ ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণ
গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণের ফলে কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেড়েছে। সেচ পাম্প, চালের মিল, হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে উঠেছে। কৃষকরা কম খরচে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন।
কৃষি যন্ত্রপাতি বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, "বিদ্যুতায়ন কৃষি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। সেচ থেকে শুরু করে ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত সবক্ষেত্রে বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে।"
ডিজিটাল সংযোগ ও কৃষি তথ্য সেবা
ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণের ফলে কৃষকরা সহজে কৃষি তথ্য পাচ্ছেন। মোবাইল অ্যাপ, হটলাইন ও এসএমএস সেবার মাধ্যমে আবহাওয়া পূর্বাভাস, বাজারমূল্য ও চাষাবাদ পদ্ধতি জানতে পারছেন। এতে উৎপাদন ও বিপণন সহজ হয়েছে।
কৃষি তথ্য সেবা (এআইএস) এর মাধ্যমে প্রতিদিন ১০ লাখ কৃষক এসএমএস পাচ্ছেন। কৃষকরা কৃষি কল সেন্টারে ফোন করে পরামর্শ নিচ্ছেন।
গ্রামীণ বাজার ও হাট স্থাপন
গ্রামীণ পর্যায়ে পাকা বাজার ও হাট স্থাপন করা হয়েছে। এতে কৃষকরা সহজে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন। পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি হাট থেকে পণ্য সংগ্রহ করছেন। মধ্যস্বত্বভোগীদের দখল কমায় কৃষকরা বেশি দাম পাচ্ছেন।
গ্রামীণ বাজারে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদাম ও ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফসলের অপচয় কমেছে ও সংকট মৌসুমে ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।
স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন
গ্রামীণ এলাকায় স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন হয়েছে। প্রতি গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। কৃষকরা বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেন। স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ায় রোগবালাই কমেছে।




