কৃষক বান্ধব আইন প্রণয়ন, জমি অধিকার ও ঋণ সুবিধায় নতুন মাত্রা

‘কৃষক বান্ধব আইন-২০২৫’ এর আওতায় কৃষকদের অধিকার সুরক্ষিত, বাস্তবায়নে সচেষ্ট সরকার
N. A. Noman
N. A. Noman Super Admin
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬; বিকেল ০৫টা

কৃষকদের অধিকার সুরক্ষায় সরকার ‘কৃষক বান্ধব আইন-২০২৫’ প্রণয়ন করেছে। নতুন আইনে কৃষকের জমি অধিকার, ঋণ সুবিধা, বাজার ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগকালীন সহায়তার কথা বলা হয়েছে। আইনটি বাস্তবায়নে কৃষি মন্ত্রণালয় সচেষ্ট।


আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন আইনের আওতায় দেশের প্রায় ১.৫ কোটি কৃষক লাভবান হবেন। কৃষকদের জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, যেখানে দ্রুত নিষ্পত্তি হবে কৃষি সংক্রান্ত মামলা।


জমি অধিকার ও ভূমি সংস্কার

নতুন আইনে কৃষকের জমি অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে। ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কৃষি জমি অন্য কাজে ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।


ভূমি সংস্কার বোর্ডকে আরও ক্ষমতায়ন করা হয়েছে। কৃষকদের জমি নিয়ে নানা জটিলতা নিরসনে ‘ভূমি হেল্পলাইন’ চালু করা হয়েছে। কৃষকরা হটলাইনে ফোন করে জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন।


খুলনার কৃষক মো. ইদ্রিস আলী বলেন, "আমার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছিল। নতুন আইনের আওতায় দ্রুত নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন স্বস্তিতে আছি। কৃষকদের অধিকার রক্ষায় এই আইন খুব কাজে দিয়েছে।"


কৃষি ঋণ ও সহায়তা

নতুন আইনে কৃষি ঋণের সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। কৃষকরা জমির মালিকানা সনদ ছাড়াও সমিতির মাধ্যমে ঋণ নিতে পারছেন। কৃষি ঋণের সুদহার ৪% নির্ধারণ করা হয়েছে।


খেলাপি কৃষকদের জন্য বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে ঋণ পরিশোধে ছাড় দেওয়ার বিধান রয়েছে। কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দিতে কৃষি ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


বাজার ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্যমূল্য

নতুন আইনে কৃষি পণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের বিধান রাখা হয়েছে। কৃষি বিপণন বোর্ডকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে। কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন কি না তা নজরদারি করা হচ্ছে।


মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দিয়ে কৃষক সরাসরি ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কৃষকের বাজারের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করছেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দখল কমেছে ও কৃষকরা বেশি দাম পাচ্ছেন।


দুর্যোগকালীন সহায়তা

আইনে দুর্যোগকালীন কৃষকদের বিশেষ সহায়তার বিধান রাখা হয়েছে। বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড়ে ফসল নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ফসলের বীমা বাধ্যতামূলক করার বিধান রাখা হয়েছে।


দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে। এ তহবিল থেকে দ্রুত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসনে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণের ব্যবস্থা আছে।


আইন বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

আইন বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কৃষকদের সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের অভাব, জটিল আইনি প্রক্রিয়া ও জমি জরিপের ঘাটতি প্রধান চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ চলছে।


আইন বাস্তবায়িত হলে কৃষি খাত আরও উন্নত হবে ও কৃষকরা লাভবান হবেন। আইনের সফল বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও সুশীল সমাজের সহায়তা প্রয়োজন।