ফসল বীমার আওতা বাড়ছে, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা পাচ্ছেন ক্ষতিপূরণ

বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড়ে ফসল নষ্টের ক্ষতিপূরণ দ্রুত দেওয়া হচ্ছে
N. A. Noman
N. A. Noman Super Admin
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬; বিকেল ০৫টা ০৩ মিনিট

ফসল বীমার আওতা বাড়ছে। দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে কৃষকরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন। বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বীমার আওতা সম্প্রসারিত হয়েছে। কৃষকরা বীমা করিয়ে ফসলের ঝুঁকি কমাতে পারছেন।


কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩০ লাখ কৃষক ফসল বীমার আওতায় এসেছেন। গত এক বছরে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ২ লাখ কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। মোট ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা।


ফসল বীমার সুবিধা ও প্রক্রিয়া

ফসল বীমার আওতায় ধান, গম, ভুট্টা, পাট, আখ, ডাল ও তেলবীজের বীমা করা যাচ্ছে। প্রতি বিঘা জমির বীমা প্রিমিয়াম ২০০ টাকা, যার ৫০% বহন করছে সরকার। কৃষককে দিতে হয় মাত্র ১০০ টাকা।


বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও পোকামাকড়ের আক্রমণে ফসল নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। প্রতি বিঘা জমির সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ ৫ হাজার টাকা। ক্ষতিপূরণ সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয়।


খুলনার কৃষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, "বন্যার কারণে আমার ধান নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বীমা দাবি করায় দ্রুত ক্ষতিপূরণ পেয়েছি। ফসল বীমা কৃষকের জন্য অনেক উপকারী।"


দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া

দুর্যোগের পর দ্রুত ক্ষতি জরিপ করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতি যাচাই করে প্রতিবেদন দিচ্ছেন। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের দাবি নিষ্পত্তিতে ‘নো ফরম নো টেনশন’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।


গত বন্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলের ৫০ হাজার কৃষক এক মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। দ্রুত ক্ষতিপূরণ পেয়ে কৃষকরা পুনরায় ফসল চাষ করতে পেরেছেন।


বীমার আওতা সম্প্রসারণ

ফসল বীমার আওতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবাদি পশু, মাছ চাষ ও হাঁস-মুরগি পালনের বীমা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি যন্ত্রপাতির বীমাও আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।


বীমার আওতা সম্প্রসারণে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। বীমা সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা দিতে প্রশিক্ষণ ও প্রচার চালানো হচ্ছে। বীমার সুবিধা বুঝিয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।


ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সরকারি উদ্যোগ

ফসল বীমার পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ পূর্বাভাস ও সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ফসলের বীমা তহবিল গঠন করা হয়েছে।


কৃষি ঋণগ্রহীতাদের জন্য বীমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ঋণ নেওয়ার সময় বীমা করাতে হবে। এতে কৃষক ও ব্যাংক উভয়ই সুরক্ষিত থাকছে।


ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ

সরকার আগামী ৫ বছরে ফসল বীমার আওতা ১ কোটি কৃষকে সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বীমার প্রিমিয়াম আরও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বীমা দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করা হবে।


তবে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতার অভাব ও বীমা সংক্রান্ত জটিলতা বড় চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচার ও প্রশিক্ষণ জোরদার করা হবে। বীমা কোম্পানিগুলোকে কৃষকবান্ধব হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।