কৃষি খাতে ভর্তুকি ও প্রণোদনার আওতা ক্রমশ বাড়ছে। সার, বীজ, সেচ ও কৃষি যন্ত্রপাতিতে ভর্তুকি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে কৃষকদের উৎপাদনে আগ্রহ বেড়েছে। ভর্তুকি ও প্রণোদনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কৃষকরা সাড়া দিচ্ছেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ ছিল ২০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সার ভর্তুকি ১২ হাজার কোটি টাকা, বীজ ভর্তুকি ৩ হাজার কোটি টাকা, সেচ ভর্তুকি ২ হাজার কোটি টাকা ও কৃষি যন্ত্রপাতি ভর্তুকি ৩ হাজার কোটি টাকা।
সার ও বীজ ভর্তুকি
কৃষকরা বাজার মূল্যের চেয়ে ৩০-৪০% কম দামে সার কিনতে পারছেন। ইউরিয়া সার কৃষক পর্যায়ে ২৫ টাকা কেজি দরে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা বাজার মূল্যের তুলনায় ৩০% কম। ডিএপি ও এমওপি সারের দামও কম রাখা হয়েছে।
উন্নত মানের বীজেও ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা ভর্তুকি মূল্যে বীজ কিনে উৎপাদন বাড়াতে পারছেন। বীজ প্রতিস্থাপনের হার বেড়ে এখন ৩০% এ পৌঁছেছে।
কিশোরগঞ্জের কৃষক মো. আব্দুল বারী বলেন, "সার ও বীজ ভর্তুকি পেয়ে আমি সন্তুষ্ট। ভর্তুকি না পেলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যেতো। সরকারের এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।"
সেচ ও কৃষি যন্ত্রপাতি ভর্তুকি
সেচ খরচ কমাতে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা সোলার পাম্প ও সেচ যন্ত্রপাতি কেনায় ৫০% ভর্তুকি পাচ্ছেন। ডিজেলচালিত পাম্পের তুলনায় সোলার পাম্পে খরচ কম ও পরিবেশ দূষণ কম।
ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার ও কম্বাইন হারভেস্টার কেনায় ৫০-৭০% ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা ভর্তুকি পেয়ে যন্ত্রপাতি কিনে উৎপাদন বাড়াচ্ছেন।
দিনাজপুরের কৃষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "ভর্তুকি পেয়ে আমি একটি ট্রাক্টর কিনেছি। নিজের জমি চাষের পাশাপাশি অন্যের জমিও চাষ করি। মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা আয় হয়।"
বোরো ও আমন মৌসুমে প্রণোদনা
সরকার বোরো ও আমন মৌসুমে ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করেছে। এর আওতায় বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ২০ লাখ কৃষক প্রণোদনা পেয়েছেন।
প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে কৃষকরা উৎপাদন বাড়াতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। ফসলের ফলন ও গুণগত মান বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী মৌসুমেও প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
ভর্তুকির ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা
ভর্তুকি বিতরণে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। কৃষকদের কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভর্তুকি কৃষকদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষকদের ডাটাবেজ তৈরি করেছে। এ ডাটাবেজের মাধ্যমে ভর্তুকির অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হয়েছে। ভর্তুকি সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সরকার আগামী অর্থবছরে কৃষি ভর্তুকির পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। কৃষি যন্ত্রপাতি ভর্তুকির আওতা বাড়ানো হবে। জৈব সারে ভর্তুকি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভর্তুকি বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।




