কৃষি খাতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্প ও উদ্যোগ বাস্তবায়নে সাফল্য এসেছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ উন্নয়ন, কৃষক প্রশিক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের আয় বেড়েছে ৩০%। সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে কৃষকদের সাড়া মিলেছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে কৃষি খাতে ৫০টি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন প্রায় ১ কোটি কৃষক।
কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প
কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকরা ভর্তুকি মূল্যে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার ও কম্বাইন হারভেস্টার কিনছেন। এ পর্যন্ত ২ লাখের বেশি কৃষক যন্ত্রপাতি পেয়েছেন। প্রকল্পটির ব্যাপক সাড়া মিলেছে।
কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ফসল উৎপাদন খরচ কমেছে ২৫% ও সময় বেঁচেছে ৫০%। কৃষকরা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে লাভবান হচ্ছেন। যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
নওগাঁর কৃষক মো. রেজাউল করিম বলেন, "কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় আমি ট্রাক্টর পেয়েছি। জমি চাষে সময় ও খরচ দুটোই কমেছে। লাভ আগের চেয়ে অনেক বেশি। সরকারের এই প্রকল্প খুব কাজে দিয়েছে।"
সেচ উন্নয়ন প্রকল্প
সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খাল-বিল পুনঃখনন, স্লুইস গেট নির্মাণ ও সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এতে সেচ সুবিধা বেড়েছে ও খরচ কমেছে। প্রকল্পটির আওতায় ৫ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারিত হয়েছে।
বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য পুকুর ও জলাশয় খনন করা হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার কমাতে স্মার্ট সেচ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। কৃষকরা ড্রিপ ইরিগেশন ও স্প্রিংকলার পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।
কৃষক প্রশিক্ষণ প্রকল্প
কৃষক প্রশিক্ষণ প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ৫০ লাখ কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, কীটনাশক ব্যবহার, ফসল সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকরা উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন।
নারী কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। নারীরা সবজি চাষ, হাঁস-মুরগি পালন ও মাছ চাষে সফলতা পাচ্ছেন। প্রশিক্ষণের ফলে নারীরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
বাজার ব্যবস্থাপনা প্রকল্প
বাজার ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় কৃষকের বাজার স্থাপন ও অনলাইন বিপণন চালু করা হয়েছে। কৃষকরা সরাসরি ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন। মধ্যস্বত্বভোগীদের দখল কমায় কৃষকরা বেশি দাম পাচ্ছেন।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদাম স্থাপন করে ফসল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফসলের অপচয় কমেছে ও সংকট মৌসুমে দাম ভালো পাচ্ছেন কৃষকরা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সরকার আগামী ৫ বছরে আরও ৫০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। ডিজিটাল কৃষি, এআই প্রযুক্তি, স্মার্ট ফার্মিং ও জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে। বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।




