কৃষকের জন্য মোবাইল অ্যাপ, হাতের মুঠোয় কৃষি তথ্য ও পরামর্শ

কৃষি অ্যাপের মাধ্যমে আবহাওয়া, বাজারমূল্য, রোগ শনাক্তকরণ ও চাষাবাদ পদ্ধতি জানছেন কৃষকরা
N. A. Noman
N. A. Noman Super Admin
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬; বিকেল ০৪টা ০৫ মিনিট

মোবাইল ফোনের কল্যাণে কৃষকরা এখন হাতের মুঠোয় পাচ্ছেন প্রয়োজনীয় সব কৃষি তথ্য। আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজারমূল্য, ফসলের রোগ শনাক্তকরণ ও চাষাবাদ পদ্ধতি জানার জন্য কৃষকরা ব্যবহার করছেন বিভিন্ন কৃষি অ্যাপ।


বর্তমানে দেশে ৫০টির বেশি কৃষি অ্যাপ চালু আছে। এর মধ্যে সরকারি উদ্যোগে ‘কৃষক বন্ধু’, ‘ডিজিটাল কৃষি’, ‘মাটি ও ফসল’ এবং বেসরকারি উদ্যোগে ‘কে-গ্রিক’, ‘আইফার্ম’, ‘এগ্রি-বাট’ উল্লেখযোগ্য।


জনপ্রিয় কৃষি অ্যাপের বৈশিষ্ট্য

কৃষি অ্যাপগুলোতে সাধারণত আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ফসলের রোগ শনাক্তকরণ, চাষাবাদ পদ্ধতি, সার ও কীটনাশকের ডোজ, বাজারমূল্য, আবাদি জমির তথ্য, কৃষি যন্ত্রপাতি ভাড়াসহ নানা সেবা রয়েছে। কিছু অ্যাপে অডিও ও ভিডিও টিউটোরিয়ালও আছে।


কুমিল্লার কৃষক মো. সামসুল হক বলেন, "আমি 'কে-গ্রিক' অ্যাপ ব্যবহার করি। এতে আমার টমেটো গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার কারণ ও চিকিৎসা জেনেছি। অ্যাপটি খুব কাজে লাগে। বাজারের দামও জানতে পারি।"


অনলাইন কৃষি পরামর্শ সেবা

কৃষকদের জন্য অনলাইন পরামর্শ সেবা চালু হয়েছে। ফেসবুক, হটলাইন ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কৃষকরা বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। ফসলের সমস্যার ছবি পাঠালে বিশেষজ্ঞরা দ্রুত সমাধান দেন।


কৃষি তথ্য সেবা (এআইএস) এর হটলাইন নম্বরে ডায়াল করলেই কৃষকরা তাদের সমস্যা জানাতে পারেন। প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার কল আসে। বিশেষজ্ঞরা ফোনেই সমাধান দিয়ে থাকেন।


মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কৃষি লেনদেন

মোবাইল ব্যাংকিং এখন কৃষকদের নিত্যদিনের সঙ্গী। বিকাশ, নগদ, রকেটের মাধ্যমে কৃষকরা সার, বীজ ও কীটনাশক কিনছেন। পণ্য বিক্রির টাও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিচ্ছেন। এতে নগদ টাকা বহনের ঝামেলা কমেছে।


কৃষি পণ্যের বাজারমূল্য জানতে ও অনলাইনে অর্ডার করতে বিশেষ অ্যাপ ও ফেসবুক গ্রুপ তৈরি হয়েছে। কৃষকরা সরাসরি ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন।


ডিজিটাল কৃষি সেবার প্রসার

সরকার ডিজিটাল কৃষি সেবা প্রসারে কাজ করছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে কৃষি তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষকরা সেখানে কম্পিউটারে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য নিতে পারেন।