কৃষি যান্ত্রিকীকরণে নতুন মাইলফলক, ট্রাক্টর-হারভেস্টার ব্যবহার বেড়েছে ৪০%

সরকারি ভর্তুকি ও প্রশিক্ষণে কৃষকরা আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন
N. A. Noman
N. A. Noman Super Admin
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬; বিকেল ০৪টা ০২ মিনিট

দেশের কৃষি খাতে যান্ত্রিকীকরণ দ্রুত এগিয়ে চলছে। গত দুই বছরে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপারের ব্যবহার বেড়েছে ৪০%। সরকারি ভর্তুকি ও কৃষক প্রশিক্ষণের ফলে কৃষকরা আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে আগ্রহী হচ্ছেন।


কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকরা ৫০-৭০% ভর্তুকি মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি কিনতে পারছেন। এ পর্যন্ত ২ লাখের বেশি কৃষককে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার সরবরাহ করা হয়েছে। কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপারের সংখ্যাও বাড়ছে।


ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের ব্যবহার

জমি চাষে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। গরু-মহিষের জায়গায় এখন যন্ত্র দিয়ে জমি চাষ করা হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই কমছে। প্রতি বিঘা জমি চাষে গরু দিয়ে খরচ হয় ১০০০-১২০০ টাকা আর সময় লাগে ৪-৫ ঘণ্টা। অন্যদিকে ট্রাক্টর দিয়ে খরচ হয় ৬০০-৮০০ টাকা আর সময় লাগে মাত্র ৩০-৪০ মিনিট।


দিনাজপুরের কৃষক মো. আব্দুল মজিদ বলেন, "আমি সরকারি ভর্তুকিতে একটি ট্রাক্টর কিনেছি। নিজের জমি চাষের পাশাপাশি অন্যের জমিও চাষ করি। মাসে ২০-২৫ হাজার টাকা আয় হয়। ট্রাক্টর কেনার টাকা এখন প্রায় উঠে এসেছে।"


কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার

ফসল কর্তনে কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার ব্যবহার বেড়েছে। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে এই যন্ত্রের চাহিদা অনেক বেশি। একটি কম্বাইন হারভেস্টার এক ঘণ্টায় ১ বিঘা জমির ধান কর্তন করতে পারে। যা ম্যানুয়ালি করতে ১০-১২ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।


কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারে ফসল কর্তনের সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি ফসলের অপচয়ও কমে। ধান কর্তনের সময় ম্যানুয়ালি ৩-৫% ধান ঝরে পড়লেও যন্ত্রের মাধ্যমে তা ১% এর নিচে নেমে এসেছে।


যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণ

কৃষি যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস ও কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নিয়মিত প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এছাড়া মোবাইল অ্যাপ ও হটলাইনের মাধ্যমে যন্ত্রপাতির সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়।


কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বিশেষজ্ঞ ড. মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, "কৃষি যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারলে এর আয়ু বাড়ে ও কার্যকারিতা ভালো থাকে। কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন।"


ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সরকার কৃষি যান্ত্রিকীকরণে আরও বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। আগামী ৫ বছরে কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার আরও ৫০% বৃদ্ধি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া কৃষি যন্ত্রপাতি রেন্টাল সার্ভিস চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ছোট কৃষকরাও কম খরচে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারেন।