ড্রোন ও আইওটি প্রযুক্তিতে স্মার্ট ফার্মিং, কৃষিতে নতুন দিগন্ত

মাটির স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, কীটনাশক প্রয়োগ ও ফসলের ছবি তুলতে ড্রোন ব্যবহার
N. A. Noman
N. A. Noman Super Admin
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬; বিকেল ০৪টা ০৪ মিনিট

বাংলাদেশের কৃষি খাতে ড্রোন ও আইওটি প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। কৃষকরা এখন আকাশ থেকে ড্রোন উড়িয়ে জমির স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করছেন, কীটনাশক প্রয়োগ করছেন ও ফসলের ছবি তুলছেন। ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) সেন্সরের মাধ্যমে মাটির আর্দ্রতা, উর্বরতা ও পিএইচ মান নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে।


স্মার্ট ফার্মিং প্রযুক্তি কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করছে। বিশেষ করে বৃহৎ খামার ও বাগান ব্যবস্থাপনায় ড্রোন ও আইওটির ব্যবহার বেশি।


কৃষিতে ড্রোনের ব্যবহার

ড্রোন প্রযুক্তি কৃষিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ড্রোনের মাধ্যমে বড় আকারের জমির দ্রুত জরিপ করা সম্ভব। ফসলের ছবি তুলে রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা দেওয়া যায়। এছাড়া ড্রোনের মাধ্যমে জমিতে কীটনাশক ও সারের প্রয়োগ করা যায়, যা ম্যানুয়াল পদ্ধতির চেয়ে দ্রুত ও কার্যকর।


গাজীপুরের ফল বাগান মালিক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, "আমি ড্রোন দিয়ে বাগানে কীটনাশক প্রয়োগ করি। ৩০ মিনিটে পুরো বাগানে স্প্রে করা সম্ভব হয়, যা ম্যানুয়ালি করতে ৪-৫ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হতো। খরচও কম হয়।"


বর্তমানে দেশের ২০টির বেশি প্রতিষ্ঠান কৃষি ড্রোন সরবরাহ ও সার্ভিস দিচ্ছে। সরকার কৃষি ড্রোন কেনায় ৫০% ভর্তুকি দিচ্ছে। ইতিমধ্যে ৫০০টির বেশি কৃষক ড্রোন কিনেছেন।


আইওটি সেন্সর ও মাটি পর্যবেক্ষণ

ইন্টারনেট অব থিংস প্রযুক্তি কৃষিতে যুক্ত হয়েছে। মাটিতে বসানো সেন্সর মাটির আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, উর্বরতা ও পিএইচ মান নির্ণয় করে। এই তথ্য মোবাইল ফোনে পৌঁছে যায়। কৃষকরা ঘরে বসেই জমির অবস্থা জানতে পারেন।


আইওটি সেন্সরের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় করা সম্ভব। মাটির আর্দ্রতা কমলে অটোমেটিক সেচ চালু হয়। এতে পানি সাশ্রয় হয় ও ফসল ভালো হয়।


কৃষি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ড. মো. শামীম আহমেদ বলেন, "আইওটি প্রযুক্তি কৃষিতে বিপ্লব ঘটাবে। সেন্সরের মাধ্যমে ফসলের চাহিদা বুঝে সঠিক পরিমাণ সেচ, সার ও কীটনাশক দেওয়া সম্ভব। এতে উৎপাদন খরচ কমবে ও ফসল ভালো হবে।"


ডিজিটাল কৃষি তথ্য সেবা

কৃষকদের জন্য ডিজিটাল তথ্য সেবা বাড়ছে। মোবাইল অ্যাপ, এসএমএস ও হটলাইনের মাধ্যমে কৃষকরা যেকোনো সময় কৃষি তথ্য পাচ্ছেন। আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজারমূল্য, ফসলের রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।


কৃষি তথ্য সেবা (এআইএস) এর মাধ্যমে প্রতিদিন ৫ লাখ কৃষককে এসএমএস সেবা দেওয়া হয়। এছাড়া কল সেন্টারের মাধ্যমেও কৃষকরা পরামর্শ নিতে পারছেন।


ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

ড্রোন ও আইওটি প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৫ বছরে দেশের ২০% কৃষি জমিতে স্মার্ট ফার্মিং প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কাজ চলছে।