কৃষি ঋণ ও ভর্তুকির আওতা বাড়ছে, কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন

কৃষি ব্যাংকের ঋণ বিতরণ বেড়েছে ২০%, প্রণোদনায় কৃষকের আগ্রহ দ্বিগুণ
N. A. Noman
N. A. Noman Super Admin
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬; বিকেল ০৪টা ১৯ মিনিট
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬; বিকেল ০৪টা ৩৮ মিনিট

কৃষি খাতে সরকারি ঋণ ও ভর্তুকির আওতা ক্রমশ বাড়ছে। কৃষকরা এখন আগের চেয়ে সহজে ও কম সুদে কৃষি ঋণ নিতে পারছেন। সার, বীজ, সেচ ও কৃষি যন্ত্রপাতিতে ভর্তুকি কৃষকদের উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করছে।


কৃষি ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে কৃষি ঋণ বিতরণ বেড়েছে ২০%। মোট ঋণ বিতরণ হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ হয়েছে।


ভর্তুকির আওতা ও সুবিধা

সার ও উন্নত মানের বীজে ভর্তুকি অব্যাহত রয়েছে। কৃষকরা বাজার মূল্যের চেয়ে ৩০-৫০% কম দামে সার ও বীজ কিনতে পারছেন। এছাড়া সেচ ও কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়েও ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।


কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এ বছর কৃষি ভর্তুকি বাবদ ১৫ হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে সার ভর্তুকি ১০ হাজার কোটি টাকা, বীজ ভর্তুকি ২ হাজার কোটি টাকা ও কৃষি যন্ত্রপাতি ভর্তুকি ৩ হাজার কোটি টাকা।


সিরাজগঞ্জের কৃষক মো. আব্দুল হাই বলেন, "সার ও বীজ ভর্তুকি পেয়ে আমি স্বস্তি পাই। সারের দাম বাজারে বেশি কিন্তু আমি ভর্তুকি পেয়ে কম দামে কিনতে পারি। কৃষি ব্যাংক থেকেও বছর দুই ধরে ঋণ নিচ্ছি।"


কৃষি ব্যাংকের ঋণের শর্ত ও প্রক্রিয়া

কৃষি ব্যাংক ৪% সুদে কৃষি ঋণ দিচ্ছে। ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণ নিতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী। ঋণ নিতে জমির মালিকানা সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও কৃষক কার্ড প্রয়োজন। ঋণ নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে instalment পরিশোধ করতে হবে।


কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি যাতে তারা জমির মালিকানা সনদ ছাড়াও সমিতির মাধ্যমে দলীয়ভাবে ঋণ নিতে পারেন। এতে ভূমিহীন কৃষকরাও ঋণের আওতায় আসছেন।"


প্রণোদনা প্যাকেজ ও কৃষকের প্রতিক্রিয়া

সরকার বোরো ও আমন মৌসুমে ছোট কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করেছে। এর আওতায় ২০ লাখ কৃষককে বিনামূল্যে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা এই প্রণোদনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।


দিনাজপুরের কৃষক মোছা. আমেনা বেগম বলেন, "সরকারের প্রণোদনা পেয়ে আমি খুব উপকৃত হয়েছি। বিনামূল্যে সার ও বীজ পেয়ে ফসল ভালো হয়েছে। আগামীতেও যদি এ প্রণোদনা অব্যাহত থাকে তাহলে আরও ভালো করব।"


ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঋণ বিতরণ

কৃষি ঋণ বিতরণ এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কৃষকরা ঘরে বসেই ঋণ পাচ্ছেন। এতে করে ভ্রমণ খরচ কমছে ও সময় সাশ্রয় হচ্ছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সব ব্যাংক এখন কৃষি ঋণ বিতরণে ডিজিটাল প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। কৃষকরা ঋণের আবেদন থেকে কিস্তি পরিশোধ সবকিছু মোবাইলে করতে পারছেন।


ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সরকার আগামী ৫ বছরে কৃষি ঋণের পরিমাণ দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কৃষি খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ ও ভর্তুকি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ঋণ প্যাকেজ চালু করা হবে।