কৃষি পণ্য রপ্তানি আয়ে নতুন মাইলফলক, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল ৫০০ কোটি ডলার

চিংড়ি, পাট, চা, শাকসবজি ও ফলের চাহিদা বাড়ছে বিশ্ববাজারে
N. A. Noman
N. A. Noman Super Admin
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬; বিকেল ০৪টা ১৫ মিনিট

বাংলাদেশের কৃষি পণ্যের রপ্তানি আয় গত অর্থবছরে রেকর্ড করেছে। মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৫২০ কোটি মার্কিন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রা ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। গত বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২%।


চিংড়ি, পাট ও পাটজাত পণ্য, চা, শাকসবজি, ফল ও প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্য রপ্তানি আয়ে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কৃষি পণ্যের চাহিদা বাড়ছে।


চিংড়ি রপ্তানি আয় শীর্ষে

চিংড়ি খাত থেকে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় হয়েছে। গত অর্থবছরে ৪০ হাজার টন চিংড়ি রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৪৫০ কোটি ডলার। বাগদা ও গলদা চিংড়ির চাহিদা বিশ্ববাজারে অনেক বেশি।


চিংড়ি রপ্তানিকারক মো. ইদ্রিস আলী বলেন, "বাংলাদেশি চিংড়ির গুণগত মান ভালো হওয়ায় বিদেশি ক্রেতারা পছন্দ করছেন। আমরা মান নিয়ন্ত্রণ ও প্যাকেজিংয়ে বিশেষ নজর দিচ্ছি।"


পাট ও পাটজাত পণ্যের সাফল্য

পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ১১০ কোটি ডলার। কাঁচাপাটের পাশাপাশি পাটের তৈরি ব্যাগ, পোশাক, গৃহসজ্জার সামগ্রী ও পাটের বায়োপ্লাস্টিক রপ্তানি হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানে পাটজাত পণ্যের চাহিদা বেশি।


সরকার পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। পাট পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ ও মান উন্নয়নে কাজ চলছে।


শাকসবজি ও ফল রপ্তানি

সবজি ও ফলের রপ্তানি আয় বেড়েছে। গত অর্থবছরে ৫ লাখ টন শাকসবজি ও ফল রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৭৫ কোটি ডলার। বরবটি, করলা, চিচিঙ্গা, কাঁচা পেঁপে, পেঁয়াজ, আম, লিচু, কাঁঠাল ও ড্রাগন ফল বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।


ফল ও সবজি রপ্তানিকারক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি সবজি ও ফলের ব্যাপক চাহিদা। বিমান পরিবহনে সুবিধা বাড়লে রপ্তানি আরও বাড়বে।"


কৃষি পণ্য আমদানি

চীন, ভারত, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড থেকে ভোজ্যতেল, মসলা, ডাল ও গম আমদানি করা হয়। গত অর্থবছরে কৃষি পণ্য আমদানি ব্যয় হয়েছে ৩৫০ কোটি ডলার। দেশীয় উৎপাদন বাড়ায় আমদানি নির্ভরতা কমছে।


সরকার আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। ডাল ও তেলবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


চা রপ্তানি ও আয়

বাংলাদেশি চায়ের গুণগত মান ভালো হওয়ায় রপ্তানি বাড়ছে। গত অর্থবছরে ৩০ হাজার টন চা রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৩৫ কোটি ডলার। পাকিস্তান, রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি চায়ের চাহিদা বেশি।