চলতি শীত মৌসুমে দেশের কাঁচাবাজারগুলোতে সবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। টমেটো, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, লাউ, করলা ও চিচিঙ্গার দাম কমেছে ২০-৩০%। এতে করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো স্বস্তি পাচ্ছেন।
ঢাকার কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজার ও চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি টমেটো ৩০-৪০ টাকায়, বেগুন ২৫-৩০ টাকায়, ফুলকপি ও বাঁধাকপি ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত মাসের তুলনায় দাম ৩০% কম।
ধান ও চালের বাজার মূল্য
বোরো ধান কাটা শুরু না হওয়ায় চালের দাম কিছুটা বাড়লেও তা স্থিতিশীল রয়েছে। মোটা চাল ৪৫-৫০ টাকা, সেদ্ধ চাল ৫৫-৬০ টাকা ও মিনিকেট চাল ৬৫-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা ধানের দাম মণপ্রতি ১০০০-১১০০ টাকা।
চাল ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন বোরো ধান উঠলে চালের দাম আরও কমবে। ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিম ও মুরগির দাম
বাজারে ডিম ও মুরগির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগি ১৫০-১৭০ টাকা ও সোনালি মুরগি ২২০-২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন স্বাভাবিক থাকায় দাম বাড়েনি।
গাজীপুরের পোলট্রি খামারি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "পোলট্রি খামারে উৎপাদন স্বাভাবিক থাকায় মুরগি ও ডিমের দাম স্থিতিশীল। খামারি ও ক্রেতা উভয়ই লাভবান হচ্ছেন।"
মাছের বাজার মূল্য
পুকুরে মাছ চাষের ফলন ভালো হওয়ায় মাছের দাম কমেছে। রুই ২২০-২৫০ টাকা, কাতলা ২৫০-৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের দাম কিছুটা বেশি, ৮০০-১২০০ টাকা কেজি।
মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, চিংড়ির দাম গত বছরের তুলনায় কম। বাগদা চিংড়ি ৫০০-৭০০ টাকা ও গলদা চিংড়ি ৪০০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন বাজারের মূল্য তুলনা
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর বাজার মূল্যের তুলনায় দেখা যায়, উৎপাদন এলাকার কাছে দাম কম। সরবরাহ চেইন উন্নত করলে মূল্য আরও কমে আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর প্রতিদিন দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাজারের পণ্যমূল্য সংগ্রহ করে প্রকাশ করছে। কৃষকরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও বাজার মূল্য জানতে পারছেন।




