তরুণ উদ্যোক্তাদের কৃষি খাতে ঝাঁপ, সফল এগ্রি স্টার্টআপের গল্প

ডিজিটাল প্রযুক্তিতে কৃষি সেবা, কৃষি যন্ত্রপাতি ভাড়া ও জৈব পণ্য বিপণনে স্টার্টআপ সাফল্য
N. A. Noman
N. A. Noman Super Admin
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬; বিকেল ০৫টা ০৮ মিনিট

দেশের তরুণ উদ্যোক্তারা কৃষি খাতে ঝাঁপ দিয়েছেন। কৃষি সেবা, কৃষি যন্ত্রপাতি ভাড়া, জৈব পণ্য বিপণন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্টার্টআপ গড়ে তুলছেন। এসব স্টার্টআপে বিনিয়োগ বাড়ছে ও সফলতা আসছে। তরুণ উদ্যোক্তারা কৃষি খাতকে বদলে দিচ্ছেন।


বাংলাদেশ স্টার্টআপ ডাটাবেসের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ বছরে এগ্রি স্টার্টআপের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০টিতে। এসব স্টার্টআপে ১০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০০ কোটি টাকা।


‘কে-গ্রিক’ স্টার্টআপের সাফল্যের গল্প

‘কে-গ্রিক’ একটি কৃষি প্রযুক্তি স্টার্টআপ। তারা কৃষকদের মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কৃষি তথ্য ও পরামর্শ দিচ্ছে। ফসলের রোগ শনাক্তকরণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজারমূল্য জানানোর সেবা দিচ্ছে। ১০ লাখের বেশি কৃষক এ সেবা ব্যবহার করছেন।


স্টার্টআপটির প্রতিষ্ঠাতা মো. ইমন হোসেন বলেন, "আমি কৃষক পরিবারের সন্তান। কৃষকদের সমস্যা দেখে এ স্টার্টআপ করি। এখন প্রায় ৫০ জন কর্মী নিয়োগ দিয়েছি। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বিনিয়োগ করছেন। কৃষি খাতে সম্ভাবনা অসীম।"


‘এগ্রি বাট’ স্টার্টআপ

‘এগ্রি বাট’ একটি কৃষি পণ্য বিপণন স্টার্টআপ। তারা কৃষক ও ক্রেতাদের সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে দেয়। মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দিয়ে কৃষকরা বেশি দাম পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ৫ লাখ কৃষক ও ১ লাখ ক্রেতা তাদের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছেন।


এ স্টার্টআপটি কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবা দিচ্ছে। জৈব পণ্যের জন্য আলাদা বাজার সৃষ্টি করেছে। আগামী এক বছরে আরও ১০ লাখ কৃষককে সেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে।


কৃষি যন্ত্রপাতি ভাড়ার স্টার্টআপ

ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা কৃষি যন্ত্রপাতি কিনতে পারেন না। এ সমস্যা দূর করতে ‘এগ্রি রেন্টাল’ স্টার্টআপ কাজ করছে। তারা ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, হারভেস্টার ও রিপার ভাড়া দিচ্ছে। কৃষকরা অল্প খরচে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারছেন।


স্টার্টআপটির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ২ লাখ কৃষক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেছেন। ভাড়ার টাকা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নেওয়া হয়। যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণেরও ব্যবস্থা আছে।


সরকারি সহায়তা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

সরকার এগ্রি স্টার্টআপে বিনিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। ‘এগ্রি স্টার্টআপ ফান্ড’ গঠন করা হয়েছে। এ তহবিল থেকে উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দেওয়া হচ্ছে।


বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষি খাতে স্টার্টআপের জন্য বিশেষ ঋণ প্যাকেজ চালু করেছে। উদ্যোক্তারা কম সুদে ঋণ পাচ্ছেন। ইনকিউবেশন সেন্টারের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


কৃষি উদ্যোক্তা বিশেষজ্ঞ ড. নাজমুল হক বলেন, "তরুণরা কৃষি খাতে ঝাঁপ দিচ্ছেন, এটি অত্যন্ত ইতিবাচক। এগ্রি স্টার্টআপ কৃষি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে আরও সাফল্য আসবে।"