কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ছে। চাল, ডাল, মসলা, ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে উঠছে। উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন। প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্যের চাহিদা বাড়ছে।
কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে এ খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে ১৫০%। ৫০০টির বেশি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। এসব কারখানায় ২ লাখের বেশি কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে।
চাল ও ডাল প্রক্রিয়াজাতকরণ
আধুনিক অটো রাইসমিল স্থাপন করা হয়েছে। এসব মিলে সিএনসি মেশিনের মাধ্যমে আউশ, মিনিকেট ও সেদ্ধ চাল উৎপাদন করা হচ্ছে। আধুনিক প্যাকেজিং মেশিন চালু হওয়ায় চালের মান ভালো ও সংরক্ষণ ক্ষমতা বেড়েছে।
ডাল প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে উঠেছে। মুগ ডাল, মসুর ডাল ও চানা প্রক্রিয়াজাত করে প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। ব্র্যান্ডেড ডালের বাজার দিন দিন বাড়ছে।
গাজীপুরের উদ্যোক্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, "আমি অটো রাইসমিল করছি। উন্নত মানের চাল উৎপাদন করে ব্র্যান্ডিং করছি। দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছি। মুনাফা ভালো হচ্ছে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে সম্ভাবনা অনেক।"
ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ
ফলের জুস, জ্যাম, জেলি ও আচার প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। আম, লিচু, কাঁঠাল, পেয়ারা ও কমলা দিয়ে জুস ও জ্যাম তৈরি হচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদামে ফল সংরক্ষণ করে সারা বছর প্রক্রিয়াজাতকরণ করা যায়।
সবজির আচার ও শুকনো সবজি উৎপাদনেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টমেটো, বেগুন, করলা ও চিচিঙ্গার আচার ও শুকনো সংস্করণ তৈরি হচ্ছে। এসব পণ্য দেশের বাজারের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।
মসলা প্রক্রিয়াজাতকরণ
দেশীয় মসলা প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ছে। পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, ধনিয়া, জিরা, হলুদ ও আদা প্রক্রিয়াজাত করে গুঁড়া ও প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। ব্র্যান্ডেড মসলার বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে।
জৈব মসলা উৎপাদনেও উদ্যোক্তারা আগ্রহী। রাসায়নিকমুক্ত মসলার চাহিদা বাড়ছে। জৈব মসলার দাম প্রচলিত মসলার চেয়ে ৩০-৪০% বেশি।
প্রক্রিয়াজাত পণ্যের প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিং
প্রক্রিয়াজাত পণ্যের প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিংয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক প্যাকেজিং পণ্যের আকর্ষণ বাড়াচ্ছে ও সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। ব্র্যান্ডিংয়ের কারণে পণ্যের বাজারমূল্যও বাড়ছে।
প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিং বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাফিজুর রহমান বলেন, "প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিং জরুরি। এতে করে পণ্যের গুণগত মান সুরক্ষিত হয় ও ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ে।"
সরকারি সহায়তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সরকার কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের জন্য বিশেষ ঋণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। ‘কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ নীতি-২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ নীতির আওতায় বিনিয়োগকারীরা কর অব্যাহতি ও প্রণোদনা পাবেন।
কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে আরও বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এ খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্য রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে।




