কৃষি পণ্যের বিপণনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হওয়ায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। অনলাইন মার্কেটপ্লেস ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কৃষক ও ক্রেতাদের সরাসরি সংযোগ স্থাপন হচ্ছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দখল কমায় কৃষকরা বেশি দাম ও ক্রেতারা কম দামে পণ্য পাচ্ছেন।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কৃষি পণ্যের লেনদেন বেড়েছে ১৫০%। প্রায় ১০ লাখ কৃষক অনলাইনে পণ্য বিক্রি করছেন। লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা।
অনলাইন মার্কেটপ্লেসের সাফল্য
‘কৃষক বাজার’ একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস। এখানে কৃষকরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারেন। ক্রেতারা ঘরে বসেই অর্ডার করতে পারেন। পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হয়। সবজি, ফল, মাছ, মাংস, ডিম ও দুধের পণ্য বিক্রি হচ্ছে।
ইতিমধ্যে ২ লাখ কৃষক এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার অর্ডার আসে। ক্রেতাদের ৮০% পুনরায় অর্ডার করেন। কৃষকরা আগের চেয়ে ২০-৩০% বেশি দাম পাচ্ছেন।
ঢাকার ক্রেতা মোছা. সালমা বেগম বলেন, "আমি অনলাইনে সবজি কিনি। বাজার থেকে কেনার চেয়ে দাম কম পড়ে। পণ্যের মানও ভালো। কৃষকরা সরাসরি বিক্রি করায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দখল নেই।"
মোবাইল অ্যাপে কৃষি বিপণন
‘এগ্রি মার্ট’, ‘গোল্ডেন ফার্ম’, ‘ফার্মার্স নেট’ মোবাইল অ্যাপে কৃষি পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এসব অ্যাপে কৃষকদের পণ্যের ছবি ও দাম দেওয়া থাকে। ক্রেতারা পছন্দমতো পণ্য অর্ডার করেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট হয়।
অ্যাপগুলোতে পণ্যের বাজারমূল্য ও মান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর দেওয়া হয়। কৃষকদের পণ্যের মান যাচাই করে তবেই বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন
কৃষি পণ্যের সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। জিপিএস ট্র্যাকিং, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি ও গুদাম ব্যবহার করে পণ্য পরিবহন ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পণ্যের অপচয় কমেছে ও গুণগত মান ভালো থাকছে।
সাপ্লাই চেইন বিশেষজ্ঞ ড. মো. শাহিনুর রহমান বলেন, "কৃষি পণ্যের সাপ্লাই চেইন দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পণ্যের ক্ষতি কমানো ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব। সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করছে।"
কৃষকের বাজার ও হাট স্থাপন
সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘কৃষকের বাজার’ ও ‘হাট’ স্থাপন করা হয়েছে। কৃষকরা এখানে সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারেন। মধ্যস্বত্বভোগীদের বিনা মূল্যে পণ্য সংগ্রহের সুযোগ নেই।
এসব বাজারে কৃষি কর্মকর্তারা পণ্যের মান যাচাই করেন। বাজারমূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনা হয়েছে। কৃষকরা আগের চেয়ে ভালো দাম পাচ্ছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সরকার কৃষি বিপণনে আরও ডিজিটালাইজেশন ও অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা করছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদাম ও প্যাকিং হাউস স্থাপন করা হবে। কৃষি পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে বিশেষ বিপণন উদ্যোগ নেওয়া হবে।




