বাংলাদেশি কৃষি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ হয়েছে। চিংড়ি, পাট, চা, সবজি ও ফলের চাহিদা নতুন নতুন দেশে বাড়ছে। রপ্তানি আয়ে রেকর্ড হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কৃষি পণ্য রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে কৃষি পণ্য রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৫৫০ কোটি ডলার। গত বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০%। নতুন বাজার সম্প্রসারণ ও পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এ সাফল্য এনেছে।
চিংড়ি রপ্তানি ও নতুন বাজার
চিংড়ি রপ্তানি আয় গত অর্থবছরে ৪৭০ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামে চিংড়ি রপ্তানি হচ্ছে। নতুন করে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় চিংড়ি রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিংয়ে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখায় বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা অর্জিত হয়েছে। অর্গানিক চিংড়ির চাহিদা বাড়ছে।
চিংড়ি রপ্তানিকারক মো. ফারুক হোসেন বলেন, "আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে চিংড়ি রপ্তানি করছি। মান নিয়ন্ত্রণ ও ট্রেসাবিলিটি নিশ্চিত করায় ক্রেতারা সন্তুষ্ট। নতুন বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।"
পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি
পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ১২০ কোটি ডলার। কাঁচাপাটের পাশাপাশি পাটের তৈরি ব্যাগ, পোশাক, গৃহসজ্জার সামগ্রী ও পাটের বায়োপ্লাস্টিক রপ্তানি হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপানে চাহিদা বেশি।
পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ায় রপ্তানি আয় বাড়ছে। পাটজাত পণ্যের বিশ্ববাজারে চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সরকার পাট পণ্যের বৈচিত্র্যকরণে কাজ করছে।
সবজি ও ফল রপ্তানি সম্প্রসারণ
তাজা ও প্রক্রিয়াজাত সবজি ও ফলের রপ্তানি বাড়ছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে সবজি ও ফল রপ্তানি হচ্ছে। বরবটি, করলা, চিচিঙ্গা, কাঁচা পেঁপে, আম, লিচু, কাঁঠাল ও ড্রাগন ফল রপ্তানি হচ্ছে।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনারে পণ্য পরিবহন ও শুল্ক জটিলতা কমানোয় রপ্তানি বেড়েছে। নতুন করে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চা রপ্তানি ও ব্র্যান্ডিং
বাংলাদেশি চায়ের গুণগত মান উন্নয়নে রপ্তানি বাড়ছে। গত অর্থবছরে ৩৫ হাজার টন চা রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৪০ কোটি ডলার। পাকিস্তান, রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে চাহিদা বেশি।
চায়ের ব্র্যান্ডিং ও প্যাকেজিংয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। বুটিক চা, গ্রিন টি ও অর্গানিক চায়ের চাহিদা বাড়ছে। নতুন চা বাগান সৃষ্টি ও চা প্রক্রিয়াজাতকরণে আধুনিক মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।
সরকারি উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সরকার কৃষি পণ্য রপ্তানি বাড়াতে ‘কৃষি পণ্য রপ্তানি নীতি-২০২৫’ প্রণয়ন করেছে। রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রপ্তানিকারকদের প্রণোদনা ও কর অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি পণ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্টে আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপনে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বলেন, "আমরা কৃষি পণ্যের নতুন নতুন বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছি। বিদেশি ক্রেতাদের সাথে বাণিজ্য মেলার আয়োজন করছি। আগামী ৫ বছরে কৃষি পণ্য রপ্তানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে।"




