বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান জলবায়ু সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনে সফলতা পেয়েছে। লবণাক্ততা ও খরা সহনশীল ধান, গম ও ভুট্টার জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ জাতগুলো কৃষকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।
কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে ৫০টির বেশি নতুন ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে ধানের জাত ২৫টি, গমের জাত ১০টি, ভুট্টার জাত ৮টি ও অন্যান্য ফসলের ৭টির বেশি জাত উদ্ভাবিত হয়েছে।
লবণাক্ততা সহনশীল ফসল
উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ত জমিতে চাষের উপযোগী লবণাক্ততা সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। ব্রি ধান-৬৭, ব্রি ধান-৭৮ ও সোনালী ধানের জাতগুলো লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। এসব জাত উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের আশার আলো দেখিয়েছে।
খুলনার কৃষক মো. জামির উদ্দিন বলেন, "আমি লবণাক্ততা সহনশীল ধানের চাষ করেছি। আগে লবণাক্ত পানিতে ধানের চারা মরে যেতো, এখন ভালো ফলন পাচ্ছি। গবেষণা ইনস্টিটিউটকে অনেক ধন্যবাদ।"
খরা সহনশীল ফসলের জাত
শুষ্ক এলাকার জন্য খরা সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। বারি গম-২৫, বারি গম-২৮ ও বারি ভুট্টা-৯ খরা সহনশীল ও কম পানিতেও ভালো ফলন দেয়। উত্তরা ও পশ্চিমাঞ্চলের কৃষকরা এ জাত চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
কৃষি গবেষক ড. মো. আব্দুল হান্নান বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে খরার প্রকোপ বাড়ছে। খরা সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন কৃষকদের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। এই গবেষণা কৃষি খাতের জন্য বড় অর্জন।"
জিনোমিক্স ও বায়োটেকনোলজি গবেষণা
কৃষি গবেষণায় জিনোমিক্স ও বায়োটেকনোলজি প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের জিনোমিক্স ল্যাবে ফসলের জিন সিকোয়েন্সিং ও জিন এডিটিং গবেষণা চলছে। ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধী ও উচ্চফলনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইআরআরআই, সিআইএমএমওয়াইটি ও ওয়ার্ল্ড ভেজিটেবল সেন্টারের সাথে যৌথ গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। বাংলাদেশের গবেষকরাও আন্তর্জাতিক সম্মাননা পাচ্ছেন।
কৃষক-গবেষণা সংযোগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর
গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষকের মধ্যে সংযোগ বাড়ানো হয়েছে। মাঠ দিবস, প্রশিক্ষণ ও ডেমোনস্ট্রেশন প্লটের মাধ্যমে নতুন জাত ও প্রযুক্তি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা গবেষণার ফলাফল মাঠে প্রয়োগ করছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নতুন জাতের বীজ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করছে। এ পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি কৃষক নতুন জাতের বীজ পেয়েছেন। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ে ফলোআপ করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ গবেষণার পরিকল্পনা
কৃষি গবেষণায় আরও বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। জিন এডিটিং, ন্যানো টেকনোলজি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে আরও উন্নত ফসলের জাত উদ্ভাবনের গবেষণা চলছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় বাড়ানো হবে।




