কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় গত এক বছরে ২০ লাখের বেশি কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মাঠ দিবস, হ্যান্ডস-অন ট্রেনিং ও অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি শিখছে। প্রশিক্ষণে সাড়া ব্যাপক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি উপজেলায় কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এখানে কৃষকদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও কৃষি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
মাঠ দিবস ও হ্যান্ডস-অন ট্রেনিং
মাঠ দিবসের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি মাঠে গিয়ে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি দেখে। হ্যান্ডস-অন ট্রেনিংয়ে কৃষকরা নিজের হাতে ফসলের চাষ, কীটনাশক প্রয়োগ ও ফসল সংগ্রহ করে। এতে তারা ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করছে।
নওগাঁর কৃষক মো. আজিজুল হক বলেন, "প্রশিক্ষণ নিয়ে আমি ধান চাষে আধুনিক পদ্ধতি শিখেছি। ফলন আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। প্রশিক্ষণ নিয়মিত হলে কৃষকরা আরও লাভবান হবেন।"
অনলাইন কৃষি প্রশিক্ষণ
করোনা মহামারির পর থেকে অনলাইন কৃষি প্রশিক্ষণের চল শুরু হয়েছে। ইউটিউব, ফেসবুক ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকরা ঘরে বসেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। অনলাইন প্রশিক্ষণে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচছে।
কৃষি তথ্য সেবা (এআইএস) ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে কৃষি বিষয়ে ভিডিও টিউটোরিয়াল রয়েছে। কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী যে কোনো সময় এসব টিউটোরিয়াল দেখতে পারেন।
নারী কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ
নারী কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সবজি চাষ, হাঁস-মুরগি পালন, মাছ চাষ ও পশুখাদ্য প্রস্তুতকরণে নারী কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এতে নারীরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
দিনাজপুরের নারী কৃষক মোছা. রুনু বেগম বলেন, "প্রশিক্ষণ নিয়ে আমি শাকসবজি চাষ ও হাঁস-মুরগি পালন করছি। মাসে ৫-৭ হাজার টাকা আয় হয়। নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরেছি।"
কৃষি উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ ও ঋণ
কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কৃষি উদ্যোক্তারা প্রশিক্ষণ শেষে পাট, চিংড়ি, ফুল, ফল ও প্রক্রিয়াজাত পণ্যের ব্যবসা শুরু করছেন। প্রশিক্ষণের পর তারা ব্যাংক থেকে সহজে ঋণ পাচ্ছেন।
কৃষি মন্ত্রণালয় উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ নজর দিচ্ছে। দেশের তরুণরা কৃষি খাতে উদ্যোক্তা হয়ে কাজ করছে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং শিল্পে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে।
কর্মসংস্থানের সুযোগ
কৃষি প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। কৃষি খামার, গবেষণা কেন্দ্র, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ও কৃষি বিপণনে চাকরির সুযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকরা কৃষি যন্ত্রপাতি ও সেবা প্রদানকারী হিসেবে কাজ করছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের একটি ডাটাবেজ তৈরি করছে। এ ডাটাবেজের মাধ্যমে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী চাকরি ও স্ব-কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।




