কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক ল্যাব ও গবেষণা কেন্দ্র, শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ

আন্তর্জাতিক মানের কারিকুলাম ও গবেষণা সুবিধা বাড়ছে, বিদেশি শিক্ষার্থীরাও আসছে পড়তে
N. A. Noman
N. A. Noman Super Admin
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬; বিকেল ০৪টা ২৯ মিনিট

দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে আধুনিক ল্যাব ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে অত্যাধুনিক সুবিধা চালু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে ও গবেষণা পরিচালনা করছে।


কৃষি শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ৯টি পাবলিক ও ১৫টির বেশি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অনুষদ ও কলেজ রয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী কৃষি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করছে।


আন্তর্জাতিক মানের কারিকুলাম

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কারিকুলাম আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের করা হয়েছে। বায়োটেকনোলজি, জিনোমিক্স, মলিকুলার বায়োলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন টেকনোলজি ও ফুড প্রসেসিংয়ের মতো আধুনিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।


বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোকলেসুর রহমান বলেন, "আমরা শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার সুযোগ করে দিচ্ছি। বিদেশের সাথে সমন্বয় করে কারিকুলাম তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিশ্বমানের শিক্ষা পাচ্ছে।"


গবেষণা কেন্দ্র ও ল্যাবের উন্নয়ন

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশুদ্ধ পানি ও মাটি বিশ্লেষণের জন্য উন্নতমানের ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। জিন সিকোয়েন্সিং ল্যাব, টিস্যু কালচার ল্যাব ও বায়োটেকনোলজি ল্যাব চালু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এসব ল্যাবে গবেষণা পরিচালনা করছে।


বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মোছা. নুসরাত জাহান বলেন, "আমরা আধুনিক ল্যাবে গবেষণা করার সুযোগ পাচ্ছি। এতে আমাদের ব্যবহারিক জ্ঞান বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তুলনীয় সুবিধা পাচ্ছি।"


বিদেশি শিক্ষার্থীর আগমন

বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন বিদেশি শিক্ষার্থীরাও পড়তে আসছে। নেপাল, ভুটান, ভারত, শ্রীলংকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে কৃষি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে। এতে বাংলাদেশের কৃষি শিক্ষার মান বিশ্বদরবারে স্বীকৃতি পাচ্ছে।


আন্তর্জাতিক অফিসের কর্মকর্তা বলেন, "গত ২ বছরে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সাথে শিক্ষা বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিনিময় কর্মসূচির আওতায় বিদেশে যেতে পারছে।"


ইন্টার্নশিপ ও ফিল্ড ট্রিপ

কৃষি শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ ও ফিল্ড ট্রিপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কৃষি খামার, গবেষণা কেন্দ্র ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এতে তারা কর্মমুখী শিক্ষা পাচ্ছে।


কৃষি শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টিতে কৃষি শিল্পের সাথে সমন্বয় করছে। অনেক শিক্ষার্থীই স্নাতক শেষে কৃষি খাতে চাকরি অথবা উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছে।