কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে কৃষকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ব্যবহার না করায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট ও চোখের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন কৃষকরা। কীটনাশক ব্যবহারে সচেতনতা জরুরি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে কীটনাশকের অপব্যবহারজনিত কারণে ১০ হাজার কৃষক অসুস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩০% কৃষক চর্মরোগে, ২৫% শ্বাসকষ্টে ও ১৫% চোখের সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন।
ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ব্যবহার
কীটনাশক প্রয়োগের সময় গ্লাভস, মাস্ক, গগলস ও সুরক্ষা পোশাক ব্যবহার করা জরুরি। এতে চামড়া, চোখ ও শ্বাসতন্ত্র সুরক্ষিত থাকে। প্রয়োগ শেষে ভালোভাবে হাত-মুখ ধুতে হবে ও কাপড় পরিবর্তন করতে হবে।
কৃষক মো. শহিদুল্লাহ বলেন, "আমি আগে কীটনাশক ব্যবহারের সময় কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করতাম না। এখন মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করি। স্বাস্থ্য ভালো থাকছে। কৃষকদের সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের অভ্যাস করতে হবে।"
কীটনাশকের সঠিক মাত্রা ও প্রয়োগ পদ্ধতি
কীটনাশক প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে। অতিরিক্ত মাত্রা প্রয়োগ করলে ফসলের ক্ষতি হয় ও পরিবেশ দূষিত হয়। প্রয়োগের সময় বাতাসের দিক লক্ষ্য রাখতে হবে। বৃষ্টির দিনে কীটনাশক প্রয়োগ করা যাবে না।
কীটনাশক প্রয়োগের পর নির্দিষ্ট সময় পর ফসল সংগ্রহ করতে হবে। ফসলের ওপর কীটনাশকের প্রভাব কেটে যাওয়ার পর তবেই সংগ্রহ করা নিরাপদ। এ সময়সীমা না মানলে ফসলে বিষক্রিয়া থেকে যায়।
কীটনাশকের সংরক্ষণ ও ডিসপোজাল
কীটনাশক শিশু ও গবাদি পশুর নাগালের বাইরে শুকনো ও ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে। খাবার ও পানির কাছাকাছি রাখা যাবে না। মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক নির্দেশনা অনুযায়ী ডিসপোজ করতে হবে। খালি কৌটা ও বোতল ব্যবহারের পর ভালোভাবে ধুয়ে পুঁতে ফেলতে হবে।
জৈব কীটনাশকের ব্যবহার
রাসায়নিক কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব কীটনাশক ব্যবহার স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ভালো। নিম পাতার রস, মেহগনি বীজের গুঁড়া, রসুন ও আদি বাটা, লাল মরিচের গুঁড়া ও তেল মিশিয়ে জৈব কীটনাশক তৈরি করা যায়। এতে খরচ কম ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই।
কঠোর আইন ও নজরদারি
কীটনাশকের অপব্যবহার রোধে সরকার কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে। অনুমোদনহীন কীটনাশক আমদানি ও বিক্রি নিষিদ্ধ। জাল ও নিম্নমানের কীটনাশকের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষকদের জন্য হটলাইন চালু করেছে।




