দুর্যোগ প্রস্তুতিতে কৃষকরা সচেতন, ফসলের ক্ষতি কমেছে ৪০%

আবহাওয়ার আধুনিক পূর্বাভাস ও দ্রুত সতর্কতা ব্যবস্থায় কৃষকদের সুরক্ষা বাড়ছে
N. A. Noman
N. A. Noman Super Admin
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬; বিকেল ০৪টা ৩৮ মিনিট

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আধুনিক পূর্বাভাস ও দ্রুত সতর্কতা ব্যবস্থার ফলে কৃষকরা দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম হচ্ছেন। গত এক বছরে দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি ৪০% কমেছে। কৃষকরা আগে থেকেই ফসল ঘরে তুলতে পেরেছেন বা সুরক্ষিত জায়গায় সরিয়ে নিতে পেরেছেন।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও খরায় ৫ লাখ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রস্তুতির কারণে ক্ষতির পরিমাণ কমেছে। মোট ফসল উৎপাদনে ক্ষতি হয়েছে মাত্র ৫%, যা গত বছরের তুলনায় ৪০% কম।


আধুনিক আবহাওয়া পূর্বাভাস

আবহাওয়া অধিদপ্তর এখন ডপলার রাডার, স্যাটেলাইট ও কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে সঠিক আবহাওয়া পূর্বাভাস দিচ্ছে। কৃষকরা মোবাইল অ্যাপ ও এসএমএসের মাধ্যমে ৭ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাচ্ছেন। এতে করে তারা বীজ বপন, সার প্রয়োগ ও ফসল কর্তনের সময় নির্ধারণ করতে পারছেন।


কৃষি আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ড. মো. শাহজাহান বলেন, "আধুনিক পূর্বাভাস কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ। তারা জানতে পারে কখন বৃষ্টি হবে, কখন খরা হবে। সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এতে ফসলের ক্ষতি কমছে।"


দ্রুত সতর্কতা ব্যবস্থা

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার পূর্বে কৃষকদের মোবাইলে সতর্কতা বার্তা পাঠানো হচ্ছে। 'সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম' (সিপিপি) এর স্বেচ্ছাসেবকরা কৃষকদের ফসল ঘরে তুলতে ও গবাদি পশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সহায়তা করছেন।


খুলনার কৃষক মো. আব্দুল করিম বলেন, "ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আগে আমরা সতর্কতা পেয়ে যাই। দ্রুত ধান কেটে ফেলি ও গরু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেই। এতে ক্ষতি কম হয়েছে। সতর্কতা ব্যবস্থা চালু থাকায় আমরা স্বস্তিতে আছি।"


বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুতি

বন্যা কবলিত এলাকায় উঁচু জমিতে বীজতলা তৈরি ও ফসল সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদী খননের কাজ চলছে। ফসলের বীমা চালু হওয়ায় বন্যায় ফসল নষ্ট হলে কৃষকরা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন।


ফসলের বীমা প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ২ লাখ কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। সরকার বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার দিচ্ছে।


খরা ও অনাবৃষ্টি ব্যবস্থাপনা

উত্তরা ও পশ্চিমাঞ্চলে খরার প্রকোপ কমাতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ও স্মার্ট সেচ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পানি সংরক্ষণ ও বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য পুকুর ও জলাশয় খনন করা হচ্ছে। খরা সহনশীল ফসলের জাত চালু হওয়ায় উৎপাদন স্বাভাবিক আছে।


কৃষক প্রশিক্ষণে খরা মোকাবিলার কৌশল শেখানো হচ্ছে। কৃষকরা কম পানি ও কম জ্বালানিতে সেচ দেওয়ার পদ্ধতি শিখছে।


ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সরকার দুর্যোগ প্রস্তুতিতে আরও বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। আরও বেশি ডপলার রাডার ও সতর্কতা টাওয়ার স্থাপন করা হবে। কৃষকদের জন্য বিশেষ দুর্যোগ তহবিল গঠন করা হবে। ফসলের বীমার আওতা বাড়ানো হবে।