জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বেড়েছে। কিন্তু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত লবণাক্ততা সহনশীল ধানের জাত ও সবজি চাষ পদ্ধতি কৃষকদের নতুন আশা দিয়েছে। উপকূলীয় ১৫ জেলার কৃষকরা এ জাত চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ বছরে দেশের উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়েছে ৩০%। কিন্তু লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের জাত চালু হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হয়নি।
লবণাক্ততা সহনশীল ধানের জাত
ব্রি ধান-৬৭, ব্রি ধান-৭৮ ও সোনালী ধানের জাতগুলো লবণাক্ত জমিতে চাষ করা যাচ্ছে। এসব জাতের ধান ১২-১৫ ডেসিলেসিমেন/মিটার লবণাক্ততায় পর্যন্ত ফলন দিতে পারে। চিংড়ি ঘেরের পাশের জমিতেও এ জাতের ধান চাষ সম্ভব।
সাতক্ষীরার কৃষক মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, "আগে জমিতে লবণাক্ততার কারণে ধান হতো না। এখন লবণাক্ততা সহনশীল ধান চাষ করছি। ফলন ভালো হচ্ছে। গবেষকদের ধন্যবাদ।"
লবণাক্ত জমিতে সবজি চাষ
লবণাক্ত জমিতে সবজি চাষের কৌশল উদ্ভাবন করা হয়েছে। উঁচু বেড তৈরি করে, জৈব সার ব্যবহার করে ও সেচের পানি বিশুদ্ধ করে সবজি চাষ করা যাচ্ছে। লাল শাক, পুঁইশাক, ডাঁটা, চিচিঙ্গা ও করলা লবণাক্ত জমিতে চাষ হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, লবণাক্ত জমিতে পলিথিন মালচিং ও ড্রিপ ইরিগেশন পদ্ধতি ব্যবহার করে সবজি চাষে সাফল্য পাওয়া গেছে। এ পদ্ধতিতে পানি সাশ্রয় হয় ও লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও কৃষিজমি
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে উপকূলীয় কৃষিজমি লবণাক্ত ও জলমগ্ন হচ্ছে। প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি লবণাক্ত হয়ে পড়ছে।
সরকার উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করছে। লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে স্লুইস গেট ও নদী খনন করা হচ্ছে। জলবায়ু সহনশীল কৃষি পদ্ধতি প্রসারে কাজ চলছে।
অভিযোজন কৌশল ও কৃষক প্রশিক্ষণ
উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের জলবায়ু অভিযোজন কৌশল প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। লবণাক্ততা সহনশীল ফসল চাষ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, স্মার্ট সেচ পদ্ধতি ও বিকল্প আয়ের পথ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি গবেষক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "জলবায়ু অভিযোজন কৌশল কৃষকদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম হচ্ছেন। আগামী দিনে আরও বেশি প্রশিক্ষণের প্রয়োজন।"
ভবিষ্যৎ গবেষণা ও সম্ভাবনা
জলবায়ু সহনশীল আরও উন্নত ফসলের জাত উদ্ভাবনে গবেষণা চলছে। সমুদ্র উপকূলে ম্যানগ্রোভ বনায়ন ও কৃষি বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লবণাক্ততা সহনশীল ফলের জাতও উদ্ভাবন করা হচ্ছে।




