টেকসই কৃষি ও সবুজ উদ্যোগে সাফল্য, জৈব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে

জৈব সার ও জৈব কীটনাশক ব্যবহারে কৃষি খরচ কমেছে, পরিবেশ দূষণ কমছে
N. A. Noman
N. A. Noman Super Admin
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬; বিকেল ০৪টা ৪৪ মিনিট

টেকসই কৃষি ও সবুজ উদ্যোগে বাংলাদেশ সফলতা পেয়েছে। জৈব সার ও জৈব কীটনাশক ব্যবহারে কৃষি খরচ কমেছে ও পরিবেশ দূষণ কমছে। কৃষকরা এখন রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করছেন। জৈব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে।


কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে জৈব চাষের পরিমাণ বেড়েছে ২০০%। প্রায় ৫ লাখ কৃষক জৈব পদ্ধতিতে ফসল চাষ করছেন। জৈব পণ্যের বাজার মূল্যও প্রচলিত পণ্যের চেয়ে ২০-৩০% বেশি।


জৈব সার ও কম্পোস্ট ব্যবহার

রাসায়নিক সারের পরিবর্তে কৃষকরা কম্পোস্ট, ভার্মি কম্পোস্ট ও জৈব সার ব্যবহার করছেন। গোবর, খড়, পাতা ও আবর্জনা থেকে কম্পোস্ট সার তৈরি করছেন। এটি মাটির স্বাস্থ্যের জন্য ভালো ও উৎপাদন খরচ কমায়।


কৃষক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, "আমি জৈব পদ্ধতিতে সবজি চাষ করি। কীটনাশক ব্যবহার করি না। পণ্যের দাম ভালো পাই ও স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। পরিবেশও দূষিত হয় না।"


জৈব কীটনাশক ও বালাইনাশক

রাসায়নিক কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। নিম পাতার রস, মেহগনি বীজের গুড়া, ধান কলের ছাই, লাল মরিচ, রসুন ও আদি বাটা মিশিয়ে জৈব কীটনাশক তৈরি করছেন কৃষকরা। এতে ফসলের ক্ষতি কম ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই।


কীটনাশক বিশেষজ্ঞ ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "জৈব কীটনাশক পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত। রাসায়নিক কীটনাশক মাটি ও পানিদূষণ করে। জৈব কীটনাশকের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।"


কৃষি বনায়ন ও সবুজ উদ্যোগ

কৃষি জমিতে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি বনায়নের আওতায় কৃষকরা জমির আইলে ফলজ, বনজ ও ওষধি গাছ লাগাচ্ছেন। এতে অতিরিক্ত আয় ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে।


সরকারি উদ্যোগে ৫ বছরেই ৫ কোটি গাছ রোপণ করা হয়েছে। কৃষি জমিতে ফল ও বনজ গাছ লাগিয়ে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। মধু আহরণ, পাতা পচা সার ও গাছের ছায়ায় ফসল ভালো হচ্ছে।


সোলার ইরিগেশন ও সবুজ শক্তি

কৃষি সেচে সোলার প্যানেল ব্যবহার বাড়ছে। ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের পরিবর্তে সোলার ইরিগেশন পাম্প চালু হয়েছে। এতে জ্বালানি খরচ কমেছে ও পরিবেশ দূষণ কমছে। কৃষকরা সোলার প্যানেল থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রিও করতে পারছেন।


সরকার সোলার ইরিগেশন পাম্পে ৫০% ভর্তুকি দিচ্ছে। এ পর্যন্ত ৫০ হাজার সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। আগামী ৫ বছরে আরও ২ লাখ পাম্প স্থাপনের লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।


ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ

টেকসই কৃষির প্রসারে আরও বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। জৈব পণ্যের চাহিদা বাড়াতে বাজার সম্প্রসারণ ও বিপণন ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। কৃষকদের জৈব চাষে প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেওয়া হবে।


তবে জৈব সার ও জৈব কীটনাশকের সরবরাহ ও গুণগত মান নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো ও মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।