জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কৃষকরা সচেতন হচ্ছেন। দেশীয় প্রজাতির ফসল, সবজি ও গবাদি পশু সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিলুপ্তপ্রায় অনেক প্রজাতি ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। কৃষকরা এখন বাণিজ্যিক ফসলের পাশাপাশি দেশীয় জাতের ফসলও চাষ করছেন।
কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ বছরে দেশীয় ধানের প্রজাতি কমে গেছে ৭০%। বর্তমানে মাত্র ৫০টির মতো দেশীয় ধানের প্রজাতি আছে। এসব প্রজাতি সংরক্ষণে জিন ব্যাংক স্থাপন করা হয়েছে।
দেশীয় সবজির প্রজাতি সংরক্ষণ
দেশীয় সবজির প্রজাতি সংরক্ষণে কৃষকরা ভূমিকা রাখছেন। লাল শাক, পুঁইশাক, ডাঁটা, কলমি শাক, মুলা, মিষ্টি কুমড়া, চালকুমড়া, হাঁসপাতা শাকের মতো দেশীয় সবজি এখন আবার চাষ হচ্ছে। এসব সবজি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ও কীটনাশক ছাড়াই চাষ করা যায়।
কৃষক মোছা. বিলকিস বেগম বলেন, "আমি দেশীয় সবজির বীজ সংরক্ষণ করছি। প্রতি বছর এ বীজ থেকে চারা তৈরি করে রোপণ করি। দেশীয় সবজি স্বাদে ও পুষ্টিতে উন্নত। বাজারে এর চাহিদাও আছে।"
দেশীয় গবাদি পশুর প্রজাতি রক্ষা
দেশী গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির প্রজাতি রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেড চট্টগ্রাম, সিন্ধি, সাহিওয়ালের মতো দেশী গরুর প্রজাতি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ও দেশী কালো মুরগির প্রজাতি রক্ষায় কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর দেশীয় প্রজাতির বীজ ও পশু সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। কৃষকরা এ কেন্দ্র থেকে দেশীয় প্রজাতির পশু কিনতে পারছেন।
মাছের জীববৈচিত্র্য রক্ষা
নদী, খাল ও বিলে মাছের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জাটকা ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ও অন্যান্য ছোট মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দেশীয় প্রজাতির পুটি, টেংরা, কৈ, শিং, মাগুর, গুলশা ও বেলে মাছের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
মৎস্য অধিদপ্তর দেশীয় মাছের প্রজনন ও সচলায়তন কেন্দ্র স্থাপন করেছে। পোনা উৎপাদন করে খাল-বিলে অবমুক্ত করা হচ্ছে। এতে মাছের প্রজাতি ফিরে আসছে।
জিন ব্যাংক ও বীজ সংরক্ষণ
কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে জিন ব্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। এখানে দেশীয় ধান, গম, ভুট্টা, ডাল, তেলবীজ ও সবজির ১০ হাজার জিন সংরক্ষিত আছে। কৃষকরা এখান থেকে দেশীয় প্রজাতির বীজ সংগ্রহ করতে পারছেন।
কৃষি গবেষক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, "জিন ব্যাংক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অমূল্য সম্পদ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রোগবালাই মোকাবিলায় দেশীয় প্রজাতির জিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশীয় প্রজাতির ফসল ও গবাদি পশু চাষে কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া হবে। বীজ ব্যাংক ও জিন ব্যাংক আরও সম্প্রসারণ করা হবে। কৃষকদের দেশীয় প্রজাতি চাষে প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেওয়া হবে।




