দেশে উন্নত জাতের গরু পালনে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। ফ্রিজিয়ান, সিন্ধি, সাহিওয়াল ও সংকর জাতের গরু পালনে দুগ্ধ উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে খামার গড়ে লাভবান হচ্ছেন। উন্নত জাতের গরুর দুধের চাহিদা ও দাম বেশি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে উন্নত জাতের গরুর সংখ্যা বেড়েছে ৪০ লাখ থেকে ৫২ লাখে। দুগ্ধ উৎপাদন বেড়েছে ৯৫ লাখ টন থেকে ১১৫ লাখ টন। প্রতিদিন প্রতি গরু গড়ে ৮-১০ লিটার দুধ দিচ্ছে।
ফ্রিজিয়ান ও সংকর জাতের গরু
ফ্রিজিয়ান জাতের গরু সবচেয়ে বেশি দুধ দিয়ে থাকে। প্রতিদিন একটি ফ্রিজিয়ান গরু ১৫-২০ লিটার দুধ দিয়ে থাকে। সংকর জাতের গরুও ১০-১৫ লিটার দুধ দিয়ে থাকে। দেশী গরুর তুলনায় এসব গরু ৩-৪ গুণ বেশি দুধ দেয়।
সিরাজগঞ্জের দুগ্ধ খামারি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, "আমি ফ্রিজিয়ান ও সংকর জাতের ৩০টি গরু পালন করছি। প্রতিদিন প্রায় ৪০০-৪৫০ লিটার দুধ পাই। বাজারে দুধের দাম ভালো থাকায় লাভ ভালো হচ্ছে। স্থানীয় দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে দুধ সরবরাহ করছি।"
গরুর খাদ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা
উন্নত জাতের গরুর জন্য পুষ্টিকর খাদ্য জরুরি। সবুজ ঘাস, শুকনো খড়, দানাদার খাবার ও খনিজ লবণ সঠিক অনুপাতে খাওয়াতে হবে। গাভীর গর্ভাবস্থায় ও দুগ্ধকালীন সময়ে পুষ্টির পরিমাণ বাড়াতে হবে।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিকুর রহমান বলেন, "গরুর খাদ্য তালিকায় প্রোটিন, শর্করা, ভিটামিন ও খনিজের সঠিক ভারসাম্য রাখতে হবে। সাইলেজ ও উচ্চফলনশীল ঘাস খাওয়ানো ভালো। পরিষ্কার পানি সবসময় রাখতে হবে।"
খামার ব্যবস্থাপনা ও আবাসন
আধুনিক খামারে গবাদি পশুর আবাসনের জন্য উন্নত ব্যবস্থা রাখা হয়। পাকা মেঝে, ঢেউটিনের ছাউনি, পর্যাপ্ত বায়ুচলাচল ও আলোর ব্যবস্থা থাকে। একটি গরুর জন্য স্থান প্রয়োজন ৫০-৬০ বর্গফুট।
খামারের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। প্রতিদিন গোশালা পরিষ্কার ও জীবাণুনাশক ব্যবহার করতে হবে। পোকামাকড় ও ইদুরের উপদ্রব থেকে রক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
কৃত্রিম প্রজনন ও উন্নত বীজ
গরুর উন্নত জাত সম্প্রসারণে কৃত্রিম প্রজননের ব্যবহার বাড়ছে। উপজেলা পশু হাসপাতাল ও কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রে উন্নত জাতের সেমেন পাওয়া যায়। কৃত্রিম প্রজননে রোগের ঝুঁকি কম ও উন্নত বাছুর পাওয়া যায়।
গাভীর উত্তাপকালীন সময়ে কৃত্রিম প্রজনন করাতে হবে। গর্ভাবস্থা নিশ্চিত হলে ২৮০-২৯০ দিন পর বাছুর জন্ম নেয়। বাছুরের যত্ন ও ব্যবস্থাপনার প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।
মহিষ পালন পদ্ধতি
মহিষের দুধ ও মাংসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। মহিষের দুধে ফ্যাট বেশি থাকে ও স্বাস্থ্যকর। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে মহিষ পালন বেশি হয়। উন্নত জাতের মহিষ পালনে উৎপাদন বাড়ছে।
মহিষের খাদ্য ব্যবস্থাপনা গরুর মতোই। তবে মহিষ বেশি শক্ত খাদ্য যেমন গাছের বাকল, খড় ও কাঁচা ঘাস পছন্দ করে। মহিষের গোসল ও ভিজে থাকার প্রবণতা বেশি, তাই পানি ও কাদার ব্যবস্থা রাখতে হবে।




