ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ও ভেড়া পালনে লাভের সম্ভাবনা, ক্ষুদ্র খামারিদের স্বাবলম্বীকরণ

কম খরচে অধিক লাভ, ছাগল-ভেড়ার মাংস ও পশমের চাহিদা বাড়ছে
N. A. Noman
N. A. Noman Super Admin
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬; বিকেল ০৫টা ১৮ মিনিট

ছাগল ও ভেড়া পালন স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। দেশি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চাহিদা দেশের বাজারে যেমন বেশি, তেমনি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। ভেড়ার মাংস ও পশমের চাহিদা বাড়ছে। ক্ষুদ্র খামারিরা ছাগল-ভেড়া পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।


প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ২.৫ কোটি ছাগল ও ৩০ লাখ ভেড়া রয়েছে। গত বছর ছাগলের মাংস উৎপাদন হয়েছে ৪.৫ লাখ মেট্রিক টন। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চামড়া বিশ্ব বিখ্যাত।


ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বৈশিষ্ট্য ও লাভ

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বাংলাদেশের নিজস্ব প্রজাতি। এই প্রজাতির ছাগল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, কম খরচে পালন করা যায় এবং মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু। এছাড়া এর চামড়া বিশ্ব বিখ্যাত। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল অত্যন্ত লাভজনক।

সাতক্ষীরার ছাগল পালক মোছা. রাবেয়া খাতুন বলেন, "আমি ২০টি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন করি। খরচ খুব বেশি না, অথচ মাংস বিক্রি করে লাভ ভালো। একেকটি ছাগল ৬-৭ মাসেই বিক্রি উপযোগী হয়। প্রতি ছাগলের দাম ৮-১২ হাজার টাকা।"


ভেড়া পালনের পদ্ধতি ও লাভ

ভেড়া পালনেও কৃষকরা সাফল্য পাচ্ছেন। ভেড়ার মাংসের চাহিদা বিশেষ করে শীত মৌসুমে অনেক বেড়ে যায়। উপকূলীয় এলাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে ভেড়া পালন বেশি হয়। প্রতি ভেড়ার খরচ হয় ৩৫০০-৪৫০০ টাকা আর ৬-৮ মাসে বিক্রি করা যায় ৯০০০-১২০০০ টাকায়।

ভেড়ার পশম ও চামড়া বিক্রি করে বাড়তি আয় করা যায়। উন্নত জাতের ভেড়া (অস্ট্রেলিয়ান, মারিনো) পালনে আগ্রহ বাড়ছে। এসব ভেড়া থেকে বেশি পশম পাওয়া যায়।


ছাগল-ভেড়ার আবাসন ও খাদ্য

ছাগল ও ভেড়ার খামারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। শুকনো ও উঁচু জায়গায় খামার করতে হবে। খামারে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে। একটি ছাগল বা ভেড়ার জন্য ২০-২৫ বর্গফুট স্থান প্রয়োজন।

ছাগল ও ভেড়া প্রাকৃতিক ঘাস, কাঁচা পাতা, সবজির খোসা ও দানাদার খাবার খেয়ে থাকে। কাঁঠাল পাতা, মসুরের কুঁড়া, ভূষি ও ডালের খোসা খাওয়ানো যেতে পারে। খাবার পাত্রে সবসময় পানি রাখতে হবে।


ছাগল-ভেড়ার স্বাস্থ্য সেবা ও টিকা

ছাগল ও ভেড়ার জন্য প্রয়োজনীয় টিকা যেমন পিপিআর, ফুট এন্ড মাউথ ডিজিজ ও খুরা রোগের টিকা নিয়মিত দিতে হবে। কৃমিনাশক ওষুধ প্রতি ৩ মাস অন্তর খাওয়াতে হবে। অসুস্থ পশু আলাদা রাখতে হবে ও দ্রুত চিকিৎসা করতে হবে।

গর্ভবতী ও দুগ্ধবতী ছাগল-ভেড়ার বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। খাদ্যে প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বাড়াতে হবে। বাচ্চা প্রসবের সময় সতর্ক থাকতে হবে ও নবজাতকের যত্ন নিতে হবে।


ছাগল-ভেড়ার বাজার ব্যবস্থাপনা

ছাগল ও ভেড়ার বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোরবানির ঈদে ছাগল-ভেড়ার চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। কৃষকরা সরাসরি বাজারে বিক্রির পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও বিক্রি করতে পারছেন।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "ছাগল-ভেড়ার বাজার সম্প্রসারণে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন। মধ্যস্বত্বভোগীদের দখল কমিয়ে কৃষকরা সরাসরি ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে পারলে বেশি দাম পাবেন।"