গবাদি পশুর রোগ ও চিকিৎসা সেবা প্রসারে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। লাম্পি স্কিন, ফুট এন্ড মাউথ ডিজিজ (এফএমডি) ও অ্যানথ্রাক্সের টিকা ক্যাম্পেইন জোরদার করা হয়েছে। কৃষকরা পশুর দ্রুত চিকিৎসা ও টিকা সুবিধা পাচ্ছেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ২ কোটি গবাদি পশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকা ক্যাম্পেইনের কারণে পশুর মৃত্যুর হার কমেছে ৫০%। কৃষকদের পশুর স্বাস্থ্য সচেতনতা বেড়েছে।
লাম্পি স্কিন রোগ ও চিকিৎসা
লাম্পি স্কিন ভাইরাসজনিত রোগ। এ রোগে গরুর গায়ে গিট ও জ্বর আসে, দুধ উৎপাদন কমে যায়। টিকা দেওয়া ও অসুস্থ গরু আলাদা করে চিকিৎসা করতে হবে। উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "লাম্পি স্কিন রোগের টিকা প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো উপায়। পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে গরু রক্ষা করতে হবে। অসুস্থ গরু আলাদা করে চিকিৎসা করতে হবে।"
ফুট এন্ড মাউথ ডিজিজ (এফএমডি)
এফএমডি একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এ রোগে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া আক্রান্ত হয়। পশুর মুখ ও পায়ের খুরায় ঘা হয়, লালা পড়ে ও জ্বর আসে। দুগ্ধবতী পশুর দুধ উৎপাদন কমে যায়।
এফএমডি প্রতিরোধে নিয়মিত টিকা দেওয়া জরুরি। টিকা দেওয়ার পর ৬ মাস পর্যন্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে। অসুস্থ পশু আলাদা করে চিকিৎসা করতে হবে। পশুর মুখ ও পায়ের ঘাতে এন্টিসেপটিক ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।
অ্যানথ্রাক্স রোগ ও প্রতিকার
অ্যানথ্রাক্স ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। এ রোগে পশু হঠাৎ মারা যায়। টিকা প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো উপায়। অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত স্থানে মাটি জীবাণুমুক্ত করতে হবে। মৃত পশু পুড়িয়ে ফেলতে হবে বা গভীর গর্তে চুন দিয়ে পুঁতে ফেলতে হবে।
কুষ্টিয়ার কৃষক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, "আমি নিয়মিত পশুর টিকা দেই। টিকা দেওয়ার পর থেকে পশু সুস্থ আছে। সরকারের টিকা ক্যাম্পেইনে পশুদের টিকা দিচ্ছি।"
পরজীবী ও কৃমি রোগ
গবাদি পশুর পরজীবী ও কৃমির উপদ্রব কমাতে নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে। প্রতি ৩ মাস অন্তর কৃমিনাশক দেওয়া ভালো। খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে ও পশুর মল সঠিকভাবে অপসারণ করতে হবে।
বাহ্যিক পরজীবী যেমন উকুন, মাইট ও টিকের উপদ্রব কমাতে কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। পশু গোসল করানো ও খামারে জীবাণুনাশক ব্যবহার জরুরি।
পশুর স্বাস্থ্য সেবার ডিজিটালাইজেশন
পশুর স্বাস্থ্য সেবা ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে। কৃষকরা মোবাইল অ্যাপ ও হটলাইনের মাধ্যমে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারছেন। পশুর রোগের ছবি পাঠিয়ে দ্রুত সমাধান পাওয়া যাচ্ছে। টিকার সময়সূচি সম্পর্কে এসএমএস সেবা দেওয়া হচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হটলাইন নম্বরে ডায়াল করলেই কৃষকরা পশু চিকিৎসকের সাথে কথা বলতে পারেন। প্রতিদিন গড়ে ১০ হাজার কল আসে। বিশেষজ্ঞরা ফোনেই সমাধান দিচ্ছেন।




