বাংলাদেশে পোলট্রি খাত অভূতপূর্ব উন্নয়ন অর্জন করেছে। ব্রয়লার ও লেয়ার খামার গড়ে কৃষকরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। দেশ এখন ডিম ও মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। পোলট্রি খাতের উন্নয়নে কৃষি অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে। ডিম রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পোলট্রি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে ডিম উৎপাদন হয়েছে ২৫০ কোটি পিস ও মুরগির মাংস উৎপাদন হয়েছে ৪০ লাখ মেট্রিক টন। দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও ডিম ও মাংস রপ্তানি হচ্ছে।
ব্রয়লার মুরগি পালন পদ্ধতি
ব্রয়লার মুরগি পালন অত্যন্ত লাভজনক। ৩৫-৪০ দিনেই একটি ব্রয়লার মুরগি ১.৫-২ কেজি ওজনের হয়। প্রতি চিক মুরগি পালনে খরচ হয় ১৪০-১৬০ টাকা আর বিক্রি করা যায় ২৮০-৩২০ টাকায়। নেট মুনাফা হয় ১২০-১৫০ টাকা।
গাজীপুরের পোলট্রি খামারি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "আমি ১০ হাজার ব্রয়লার চিক নিয়ে খামার করি। প্রতিবারে ২-২.৫ লাখ টাকা লাভ হয়। বছরে ৪-৫ বার খামার করি। লাভ ভালো। আধুনিক ব্যবস্থাপনার কারণে মৃত্যুর হার কম।"
লেয়ার মুরগি ও ডিম উৎপাদন
লেয়ার মুরগি ডিম উৎপাদনের জন্য পালন করা হয়। একটি লেয়ার মুরগি সপ্তাহে ৫-৬টি ডিম দিয়ে থাকে। ডিমের বাজারমূল্য ভালো থাকায় লেয়ার খামার লাভজনক। প্রতি মাসে ১০০০ মুরগি থেকে প্রায় ২৫০০০-৩০০০০ ডিম পাওয়া যায়।
পোলট্রি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. শহীদুল্লাহ বলেন, "লেয়ার খামারে সঠিক পুষ্টি ও ব্যবস্থাপনা জরুরি। ডিমের মান ঠিক রাখতে ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার দিতে হবে। নিয়মিত টিকা ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে।"
দেশি মুরগি ও হাঁস পালন
দেশি মুরগি ও হাঁসের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। দেশি মুরগির মাংস ও ডিমের স্বাদ ভিন্ন হওয়ায় দাম বেশি পাওয়া যায়। খোলা পরিবেশে দেশি মুরগি পালন লাভজনক। হাঁসের মাংসের চাহিদা বাড়ছে।
কিশোরগঞ্জের হাঁস পালক মোছা. ফাতেমা বেগম বলেন, "আমি দেশি হাঁস পালন করি। হাঁসের ডিম ও মাংস বাজারে বেশি দামে বিক্রি হয়। খোলা পুকুরের পানিতে হাঁস ছেড়ে দিই, খরচ অনেক কম। প্রতিদিন ২০-২৫টি ডিম পাই।"
পোলট্রি খাদ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা
ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির জন্য আলাদা খাদ্য তালিকা প্রয়োজন। স্টার্টার, গ্রোয়ার ও ফিনিশার খাদ্য নির্দিষ্ট সময় পর পর দিতে হবে। খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখা জরুরি। পরিষ্কার পানি সবসময় রাখতে হবে।
খাদ্যে প্রোটিন, শর্করা, ভিটামিন ও খনিজের সঠিক ভারসাম্য রাখতে হবে। ব্রয়লার মুরগির জন্য ২০-২৪% প্রোটিন ও লেয়ার মুরগির জন্য ১৬-১৮% প্রোটিন প্রয়োজন। ক্যালসিয়াম ডিমের খোসা তৈরিতে সহায়তা করে।
পোলট্রি রোগ ও টিকা ব্যবস্থাপনা
পোলট্রি খামারে নিয়মিত টিকা দেওয়া জরুরি। গাম্বুরো, রানিখেত, বার্ড ফ্লু ও কক্সিডিওসিসের মতো রোগের টিকা দিতে হবে। খামারের ভেতরে জীবাণুনাশক ব্যবহার ও পরিদর্শন নিষিদ্ধ করতে হবে। অসুস্থ মুরগি আলাদা রাখতে হবে।
পোলট্রি খামারে বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করা জরুরি। খামারের প্রবেশপথে লাইফোসেল ও ক্যালসিয়াম অক্সাইডের পাত্র রাখতে হবে। খামার কর্মীদের ভেতরে ও বাইরে যাওয়ার সময় জীবাণুনাশক ব্যবহার করতে হবে।




