দেশে গবাদি পশু পালনে আধুনিকায়ন এসেছে। উন্নত জাতের গরু ও মহিষ পালন, আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিতকরণের ফলে দুগ্ধ ও মাংস উৎপাদন বেড়েছে। কৃষকরা এখন খামার করে লাভবান হচ্ছেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে দুগ্ধ উৎপাদন হয়েছে ১১৩ লাখ মেট্রিক টন, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৬% বেশি। মাংস উৎপাদন হয়েছে ৮০ লাখ মেট্রিক টন।
উন্নত জাতের গরু পালন
দেশী গরুর পাশাপাশি ফ্রিজিয়ান, সিন্ধি, সাহিওয়াল ও সংকর জাতের গরু পালন বেড়েছে। এসব জাতের গরু বেশি দুধ দিয়ে থাকে। প্রতিদিন একটি উন্নত জাতের গরু ১৫-২০ লিটার দুধ দিয়ে থাকে, যা দেশী গরুর তুলনায় ৩-৪ গুণ বেশি।
সিরাজগঞ্জের দুগ্ধ খামারি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, "আমি ফ্রিজিয়ান ও সংকর জাতের ২০টি গরু পালন করছি। প্রতিদিন প্রায় ২৫০-৩০০ লিটার দুধ পাই। বাজারে দুধের দাম ভালো থাকায় লাভ ভালো হচ্ছে। স্থানীয় দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে দুধ সরবরাহ করছি।"
খামার ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য সেবা
আধুনিক খামারে গবাদি পশুর আবাসন, খাবার, পানি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাকা মেঝে, পর্যাপ্ত বায়ুচলাচল ও আলোর ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। নিয়মিত টিকা দেওয়া ও কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
পশু চিকিৎসক ডা. মো. আতিকুর রহমান বলেন, "গবাদি পশুর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। লাম্পি স্কিন, ফুট এন্ড মাউথ ডিজিজ ও অ্যানথ্রাক্সের মতো রোগের টিকা নিয়মিত দিতে হবে। খামারের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।"
মহিষ পালনে সাফল্য
মহিষের দুধ ও মাংসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। মহিষের দুধে ফ্যাট বেশি থাকে ও স্বাস্থ্যকর। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে মহিষ পালন বেশি হয়। উন্নত জাতের মহিষ পালনে উৎপাদন বেড়েছে।
সুনামগঞ্জের মহিষ পালক মো. আব্দুল মালেক বলেন, "আমি ৩০টি মহিষ পালন করি। মহিষের দুধ ও ঘি বিক্রি করে লাভ ভালো। একেকটি মহিষ ৭-৮ লিটার দুধ দিয়ে থাকে। দুধ থেকে তৈরি ঘি প্রতি কেজি ১২০০-১৫০০ টাকা বিক্রি করি।"
কৃত্রিম প্রজনন ও উন্নত বীজ
গবাদি পশুর উন্নত বীজ ও কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি ব্যবহার করে জাত উন্নয়ন করা হচ্ছে। উপজেলা পশু হাসপাতাল ও কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রে সেমেন ও কৃত্রিম প্রজননের ব্যবস্থা আছে। কৃষকরা কম খরচে উন্নত বাছুর পাচ্ছেন।




