স্বল্প পুঁজিতে অধিক মুনাফা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম ছাগল ও ভেড়া পালন। দেশি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চাহিদা দেশের বাজারে যেমন বেশি, তেমনি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। ভেড়ার মাংস ও পশমের চাহিদাও বাড়ছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ২.৫ কোটি ছাগল ও ৩০ লাখ ভেড়া রয়েছে। গত বছর ছাগলের মাংস উৎপাদন হয়েছে ৪ লাখ মেট্রিক টন।
ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বৈশিষ্ট্য ও লাভ
ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বাংলাদেশের নিজস্ব প্রজাতি। এই প্রজাতির ছাগল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি, কম খরচে পালন করা যায় এবং মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু। এছাড়া এর চামড়া বিশ্ব বিখ্যাত।
সাতক্ষীরার ছাগল পালক মোছা. রাবেয়া খাতুন বলেন, "আমি ১৫টি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন করি। খরচ খুব বেশি না, অথচ মাংস বিক্রি করে লাভ ভালো। একেকটি ছাগল ৬-৭ মাসেই বিক্রি উপযোগী হয়। প্রতি ছাগলের দাম ৭-১০ হাজার টাকা।"
ভেড়া পালনের পদ্ধতি ও লাভ
ভেড়া পালনেও কৃষকরা সাফল্য পাচ্ছেন। ভেড়ার মাংসের চাহিদা বিশেষ করে শীত মৌসুমে অনেক বেড়ে যায়। উপকূলীয় এলাকা, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে ভেড়া পালন বেশি হয়।
প্রতি ভেড়ার খরচ হয় ৩০০০-৪০০০ টাকা আর ৬-৮ মাসে বিক্রি করা যায় ৮০০০-১০,০০০ টাকায়। এছাড়া বছরে একবার পশম কেটে বিক্রি করা যায়, যা অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি করে।
খামার ব্যবস্থাপনা টিপস
ছাগল ও ভেড়ার খামারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। শুকনো ও উঁচু জায়গায় খামার করতে হবে। খামারে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "ছাগল ও ভেড়ার জন্য প্রয়োজনীয় টিকা যেমন পিপিআর, ফুট এন্ড মাউথ ডিজিজ ও খুরা রোগের টিকা নিয়মিত দিতে হবে। পশু স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে।"
ছাগল-ভেড়ার খাদ্য ও পুষ্টি
ছাগল ও ভেড়া প্রাকৃতিক ঘাস, কাঁচা পাতা, সবজির খোসা ও দানাদার খাবার খেয়ে থাকে। কাঁঠাল পাতা, মসুরের কুঁড়া, ভূষি ও ডালের খোসা খাওয়ানো যেতে পারে। খাবার পাত্রে সবসময় পানি রাখতে হবে।




