গবাদি পশু পালনে সঠিক পুষ্টি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি। উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পশুর স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। কৃষকরা এখন আধুনিক পদ্ধতিতে পশুখাদ্য তৈরি করছেন ও উচ্চফলনশীল ঘাস চাষ করছেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গবাদি পশুর খাদ্যে সাইলেজ ও মিক্স ফিডের ব্যবহার বেড়েছে ৩০%। এতে করে দুধ ও মাংস উৎপাদন বেড়েছে ১৫-২০%।
সাইলেজ তৈরি ও সংরক্ষণ
সাইলেজ হলো সবুজ ঘাস ও ভুট্টার গাছ টুকরো করে গাঁজিয়ে সংরক্ষণ করা খাদ্য। অন্যান্য খাদ্যের তুলনায় সাইলেজে পুষ্টি বেশি থাকে এবং সারা বছর সংরক্ষণ করা যায়। ভুট্টা, নেপিয়ার, পারা ও জার্মান ঘাস দিয়ে সাইলেজ তৈরি করা হয়।
পশু খাদ্য বিশেষজ্ঞ ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "সাইলেজ গবাদি পশুর জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য। দুগ্ধবতী গরু ও মোটাতাজাকরণ গরুর জন্য সাইলেজ খুবই কার্যকর। সাইলেজ তৈরির পদ্ধতি সহজ ও খরচ কম।"
উচ্চফলনশীল ঘাস চাষ
গবাদি পশুর জন্য উচ্চফলনশীল ঘাস চাষ করা জরুরি। নেপিয়ার, জাম্বু, সিমুল, পাকচং ও জার্মান ঘাস চাষে অধিক ফলন পাওয়া যায়। একেকটি ঘাস গাছ মাটি থেকে ৮-১০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয় এবং বারবার ছেদন করা যায়।
কিশোরগঞ্জের কৃষক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, "আমি নেপিয়ার ঘাস চাষ করি। প্রতি ৪০-৪৫ দিন পরপর কেটে গরু খাওয়াই। এই ঘাস গরুর দুধ উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে।"
পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য তালিকা
গবাদি পশুর খাদ্য তালিকায় শুকনো খড়, সবুজ ঘাস, দানাদার খাবার, খৈল ও খনিজ লবণ থাকা জরুরি। দুগ্ধবতী গরুর জন্য অতিরিক্ত প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম প্রয়োজন। গাভীর গর্ভাবস্থায় পুষ্টির পরিমাণ বাড়াতে হবে।
গবাদি পশুর জন্য দানাদার খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। সাধারণত একটি গরুকে দৈনিক ২-৩ কেজি দানাদার খাবার দেওয়া হয়। এর সাথে লবণ ও খনিজ মিশ্রণ দেওয়া জরুরি।
পানির গুরুত্ব ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা
গবাদি পশুর জন্য পর্যাপ্ত পানি জরুরি। প্রতিদিন একটি গরুকে ৩০-৪০ লিটার পানি প্রয়োজন। খামারে সবসময় পরিষ্কার পানি রাখতে হবে। গরমকালে পানির পরিমাণ বাড়াতে হবে। পানি স্বল্পতায় দুগ্ধ উৎপাদন কমে যায় ও পশু অসুস্থ হয়ে পড়ে।




