পুকুরে সোনালি মাছ, মৎস্য খাতে বৈপ্লবিক সাফল্য

দেশীয় প্রজাতির পাশাপাশি বিদেশি মাছ চাষে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন
N. A. Noman
N. A. Noman Super Admin
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬; বিকেল ০৩টা ৪৬ মিনিট

দেশের মৎস্য খাত গত এক দশকে অভূতপূর্ব উন্নয়ন অর্জন করেছে। পুকুরে মাছ চাষ, নদীতে মাছ ধরা এবং সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সুষম ব্যবহারের ফলে দেশ এখন মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির মাছ উৎপাদনকারী দেশ।


মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দেশে মোট মাছ উৎপাদন হয়েছে ৪৬ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭% বেশি। দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও মাছ রপ্তানি হচ্ছে।


পুকুরে মাছ চাষ পদ্ধতি

কৃষকরা এখন আধুনিক পদ্ধতিতে পুকুরে মাছ চাষ করছেন। পুকুর প্রস্তুতি, পোনা অবমুক্তকরণ, মাছের খাবার প্রয়োগ এবং রোগ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে তেলাপিয়া, রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের চাষ বেড়েছে।


ময়মনসিংহের মৎস্য চাষি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, "আমার ২০ শতাংশ জমির পুকুরে তেলাপিয়া ও রুই মাছ চাষ করেছি। প্রায় ৮০০ কেজি মাছ পেয়েছি। বাজারে ভালো দাম পেয়েছি। লাভ প্রায় ১ লাখ টাকা।"


চিংড়ি চাষে সাফল্য

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চিংড়ি চাষ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। বাগদা ও গলদা চিংড়ি চাষে কৃষকরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। শুধু চিংড়ি রপ্তানি থেকেই দেশ বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা আয় করে।


খুলনার চিংড়ি চাষি মো. জাকির হোসেন বলেন, "গলদা চিংড়ি চাষ অনেক লাভজনক। বিঘাপ্রতি খরচ হয় ৪০-৫০ হাজার টাকা আর বিক্রি হয় ১.৫-২ লাখ টাকা। দেশের বাজারের পাশাপাশি বিদেশেও চিংড়ি রপ্তানি হচ্ছে।"


মাছের রোগ ও চিকিৎসা

মাছের রোগ দমনে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। ইপিজুটিক আলসারেটিভ সিন্ড্রোম, টেইল রট ও ফাংগাল সংক্রমণের মতো সাধারণ রোগের চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত পুকুরে চুন প্রয়োগ, মাছের খাবারের মান বজায় রাখা এবং রোগাক্রান্ত মাছ পৃথক করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, মাছের রোগ দমনে মোবাইল অ্যাপ ও হটলাইন সেবা চালু করা হয়েছে। কৃষকরা সরাসরি মৎস্য কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে পরামর্শ নিতে পারছেন।


সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ

বঙ্গোপসাগরে নিষিদ্ধ মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন বেড়েছে। ইলিশ, লইট্টা, চিংড়ি, কোরাল ও টুনা মাছের উৎপাদন ভালো হয়েছে। জাটকা ইলিশ রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় ইলিশের উৎপাদন কয়েকগুণ বেড়েছে।