সারাদেশে ফলবাগানের বিস্তার ঘটছে। আম, লিচু, কাঁঠাল, পেয়ারা ও ড্রাগন ফল চাষে কৃষকরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। উচ্চফলনশীল জাত ও আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনার কারণে ফলন বাড়ছে। পাশাপাশি ফলের বাজারমূল্য ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ৫ বছরে দেশে ফলবাগানের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪০%। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম থাকায় ফলের দাম ভালো থাকে, যা কৃষকদের জন্য লাভজনক।
আম ও লিচুর বাগানে সাফল্য
রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ অঞ্চলের আম বাগান এখন দেশ-বিদেশে বিখ্যাত। হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি, আম্রপালি, বারী-৪সহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ হচ্ছে। এ বছর আমের ফলন ভালো হয়েছে। দামও গত বছরের তুলনায় ১০-১৫% বেশি।
রাজশাহীর কৃষক মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "আমার ২ একর জমিতে আম বাগান আছে। এ বছর প্রায় ১৫ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছি। লিচুর বাগান থেকেও লাভ ভালো হয়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে বাগান পরিচর্যা করায় ফলন বেশি পেয়েছি।"
দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও অঞ্চলে লিচুর আবাদ ব্যাপক। বেদানা, চায়না-থ্রি, বোম্বাই জাতের লিচুর চাহিদা দেশের বাইরেও রয়েছে। পাশাপাশি লিচুর আচার, জুস ও প্রক্রিয়াজাত পণ্যের ব্যবসাও বাড়ছে।
ড্রাগন ফল ও বিদেশি ফলের চাষ
বিদেশি ফল ড্রাগন ফল এখন দেশের বিভিন্ন জেলায় চাষ হচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফল চাষে কৃষকরা সফলতা পাচ্ছেন। গাজীপুর, নরসিংদী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ড্রাগন ফল বাগান গড়ে উঠেছে। প্রতি বিঘা জমিতে ড্রাগন ফল চাষে খরচ হয় ১.৫-২ লাখ টাকা, ফলন পাওয়া যায় ২৫-৩০ হাজার পিস।
ফলের বাজার মূল্য ৮০-১২০ টাকা পিস। বিঘাপ্রতি নিট মুনাফা দাঁড়ায় ১.৫-২ লাখ টাকা। এছাড়াও স্ট্রবেরি, মাল্টা, পীচ, এভোকাডো, রাম্বুটানের চাষও দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।
পেয়ারা ও কাঁঠালের বাণিজ্যিক চাষ
পেয়ারা ও কাঁঠালের বাণিজ্যিক চাষেও সফলতা আসছে। বরিশাল অঞ্চলের পেয়ারা দেশের অন্যান্য জেলায় রপ্তানি হচ্ছে। কাঁঠালের নতুন জাত বারি কাঁঠাল-১ ও বারি কাঁঠাল-২ চাষ করছেন কৃষকরা। এই জাতগুলোতে আগের তুলনায় বেশি ফলন ও কম বীজ পাওয়া যায়।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, উদ্যান ফসলের জন্য আলাদা বাজার তৈরি করা হয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদাম ও ফলের প্যাকিং হাউস স্থাপনের ফলে ফলের গুণগত মান ভালো থাকায় পণ্যের দাম বাড়ছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
দেশে ফলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও চাহিদা অনুযায়ী এখনো অনেকটা পূরণ হয়নি। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে ফলবাগান গড়ে তুললে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।




