চলতি রবি মৌসুমে গম ও ভুট্টা চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ১২ লাখ হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা অতিক্রম করে প্রায় ১৩ লাখ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে।
ভুট্টার ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। পশুখাদ্য ও শিল্প কাঁচামাল হিসেবে ভুট্টার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদ বেড়েছে কয়েকগুণ। রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে ভুট্টার আবাদ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
গম চাষে নতুন জাত
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত বারি গম-৩০ ও বারি গম-৩১ জাতটি কৃষকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই জাতগুলো রোগবালাই প্রতিরোধী এবং স্বল্প সময়ে (৯৫-১০৫ দিন) ফলন দিয়ে থাকে।
পাবনার কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, "আমি বারি গম-৩০ জাতের গম চাষ করেছি। ফলন আশাতীত ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘায় প্রায় ২০-২২ মন গম পেয়েছি। বাজারে গমের দামও ভালো থাকায় লাভ অনেক বেশি হয়েছে।"
ভুট্টা চাষের লাভজনকতা
ভুট্টা চাষ দিন দিন লাভজনক হয়ে উঠছে। প্রতি বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষে খরচ হয় প্রায় ৬-৭ হাজার টাকা আর ফলন পাওয়া যায় ২৫-৩০ মন। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী প্রতি বিঘা জমিতে নিট মুনাফা হয় ১৫-২০ হাজার টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারে ভুট্টার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষিরা উৎসাহিত হচ্ছেন। ভারত, নেপাল ও মিয়ানমারে বাংলাদেশি ভুট্টার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
সরকারি উদ্যোগ
কৃষি মন্ত্রণালয় গম ও ভুট্টা চাষিদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে ২ লাখ কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। উন্নত মানের বীজ ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।




