ডাল ও তেলবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ

মুগ, মসুর ও সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে, আমদানি নির্ভরতা কমছে
N. A. Noman
N. A. Noman Super Admin
শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬; বিকেল ০৩টা ২৬ মিনিট
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬; বিকেল ০৪টা ৩৬ মিনিট

দেশে ডাল ও তেলবীজের উৎপাদন বাড়ছে। বিশেষ করে মুগ ডাল, মসুর ডাল ও সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত বছর ডাল উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টন, যা দেশের মোট চাহিদার ৬০%।


তেলবীজ উৎপাদনেও সাফল্য এসেছে। সরিষা, সয়াবিন ও তিল চাষ বেড়েছে কয়েকগুণ। কৃষকরা উন্নত জাতের সরিষা (বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৫) চাষ করে বেশি ফলন পাচ্ছেন।


ডাল চাষের পদ্ধতি ও লাভ

মুগ ডাল চাষ অত্যন্ত লাভজনক। মাত্র ৬০-৬৫ দিনেই ফসল ঘরে তোলা যায়। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় ৪-৫ হাজার টাকা আর বিক্রি হয় ১০-১২ হাজার টাকার মুগ ডাল। নেট মুনাফা প্রায় ৬-৭ হাজার টাকা।


কৃষি বিশেষজ্ঞ ড. নজরুল ইসলাম বলেন, "মুগ ডাল চাষে কৃষকরা দিন দিন আগ্রহী হচ্ছেন। অল্প সময়ে লাভ হওয়ায় তারা ফসলের ঘূর্ণায়ন করছেন। ধান কাটার পর সরাসরি জমিতে মুগ ডালের চাষ করছেন। এতে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।"


সরিষা চাষ ও তেল উৎপাদন

দেশীয় সরিষার তেলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় মানুষ কৃত্রিম তেলের চেয়ে সরিষার তেল বেশি পছন্দ করছেন। গত বছর সরিষার আবাদ বেড়ে হয়েছে ৮ লাখ হেক্টর জমিতে।


কৃষকরা জানান, আধুনিক তেল নিষ্কাশন যন্ত্র ব্যবহার করে তারা এখন ভালো মানের তেল উৎপাদন করতে পারছেন। স্থানীয় বাজারে সরিষার তেলের দাম ভালো থাকায় তারা লাভবান হচ্ছেন।


সরকারি সহায়তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সরকার ডাল ও তেলবীজ চাষিদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা এবং উন্নত মানের বীজ সরবরাহ করছে। জাতীয় ডাল ও তেলবীজ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।


আগামী ৫ বছরের মধ্যে ডাল ও তেলবীজ উৎপাদনে ৮০% স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।