চলতি বোরো মৌসুমে সারাদেশে ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এ বছর বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৪৫ লাখ হেক্টর জমি ছাড়িয়ে গেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫% বেশি।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ধানের চারা রোপণ থেকে শুরু করে ফসল কর্তন পর্যন্ত সব পর্যায়ে কৃষকরা সন্তোষজনক ফলাফল পাচ্ছেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ধানের ফলন আশাতীত হয়েছে।
সরকারি প্রণোদনা ও সার সরবরাহ
কৃষি মন্ত্রণালয় বোরো মৌসুমে কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করেছে। এর আওতায় ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্যে সার ও উন্নত মানের বীজ বিতরণ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১২ লাখ কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের কৃষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, "সরকারের প্রণোদনা ও সময়মতো সার পাওয়ায় এ বছর আমার ২ একর জমিতে ধানের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আশা করছি গত বছরের চেয়ে অন্তত ২০% বেশি ধান পাব।"
উচ্চফলনশীল জাতের চাষাবাদ
কৃষকরা এখন ব্রি ধান-৯২, ব্রি ধান-৯৩, ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষে বেশি আগ্রহী। এই জাতগুলো রোগবালাই প্রতিরোধী এবং স্বল্প সময়ে অধিক ফলন দিয়ে থাকে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে মাঠ দিবস ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের উন্নত জাতের ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে বরিশাল, ফরিদপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলে বিশেষ মাঠ দিবসের আয়োজন করা হবে।
ফসল কর্তনে যান্ত্রিকীকরণ
এ বছর বোরো মৌসুমে ফসল কর্তনে কম্বাইন হারভেস্টারের ব্যবহার বেড়েছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকরা ভর্তুকি মূল্যে হারভেস্টার ও রিপার সংগ্রহ করতে পারছেন। এতে ফসল কর্তনের সময় ও খরচ উভয়ই কমেছে।




