দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা পাট ও আখ চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের ব্যবহারে উৎপাদন বাড়ছে, সাথে লাভের পরিমাণও বাড়ছে। কৃষকরা এখন আগের চেয়ে বেশি আগ্রহ নিয়ে পাট ও আখ চাষ করছেন।
বাংলাদেশ পাট কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে পাটের দাম গত বছরের তুলনায় ২০-২৫% বেশি। অন্যদিকে আখের গুড় ও চিনির বাজারমূল্য ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
পাট চাষে সাফল্য ও বহুমুখী ব্যবহার
পাটকে সোনালি আঁশ বলা হয়। বর্তমানে শুধু রশি ও বস্তা নয়, পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ছে। পাটের তৈরি পোশাক, ব্যাগ, গৃহসজ্জার সামগ্রী এমনকি পাটের বায়োপ্লাস্টিক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে করে পাটের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
কিশোরগঞ্জের পাট চাষি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, "আমি এবার উন্নত জাতের পাট চাষ করেছি। বিঘা প্রতি ফলন ভালো হয়েছে। পাটের দামও ১৫০০-২০০০ টাকা মণ পর্যন্ত পাচ্ছি। আগের চেয়ে লাভ বেশি হয়েছে।"
পাটের আঁশ ছাড়াও পাটের কাঠি, পাতা ও বীজের ব্যবহার নিয়ে গবেষণা চলছে। পাটের কাঠি দিয়ে জ্বালানি, পাতা দিয়ে সার ও বীজ থেকে তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আখ চাষ ও গুড় উৎপাদন
আখ চাষে লাভের পরিমাণ বাড়ছে। প্রতি বিঘা জমিতে আখ চাষে খরচ হয় ২০-২৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে ফলন পাওয়া যায় ৫০-৭০ মন আখ যা থেকে তৈরি করা যায় ৮-১০ মন গুড়। প্রতি মন গুড় বিক্রি হয় ২৫০০-৩০০০ টাকা। নিট মুনাফা দাঁড়ায় বিঘাপ্রতি ৩০-৪০ হাজার টাকা।
কুষ্টিয়া অঞ্চলের আখ চাষি মো. ইদ্রিস আলী বলেন, "এ বছর আমার ৩ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। গুড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছি। সরেজমিনে গুড় বিক্রি ভালো হচ্ছে। পাইকাররাও সরাসরি খামার থেকে গুড় কিনে নিচ্ছেন।"
সরকারি সহায়তা ও ভবিষ্যৎ
সরকার পাট ও আখ চাষিদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। উন্নত মানের বীজ ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাটের বিকল্প ব্যবহার ও আখের গুড়ের মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
ইতিমধ্যে পাটের চাহিদা বাড়ানোর জন্য ‘জাতীয় পাট নীতি-২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে পাটজাত পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।




