বাংলাদেশের কৃষি খাত গত এক দশকে অভূতপূর্ব উন্নয়ন অর্জন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দ্বিতীয় মেয়াদে কৃষি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও কৃষি প্রযুক্তির আধুনিকায়নের ফলে গত বছর মোট শস্য উৎপাদন ৪.৮ কোটি মেট্রিক টন ছাড়িয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ধান উৎপাদন হয়েছে ৪.২ কোটি টন, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ৮% বেশি। গম ও ভুট্টার উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
কৃষকরা এখন তাদের জমিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। ড্রোন প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় সেচ ব্যবস্থা এবং মাটির স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সেন্সর ব্যবহার করে কৃষকরা এখন কম খরচে বেশি ফসল ফলাতে পারছেন।
কৃষিবিদ ড. মো. আবদুল্লাহ মিয়া বলেন, "স্মার্ট ফার্মিং প্রযুক্তি কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ডিজিটাল কৃষি পরামর্শ সেবা এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকরা এখন ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় তথ্য পাচ্ছেন।"
সার ও বীজ ব্যবস্থাপনা
সরকারি সার ও উন্নত মানের বীজের সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ কৃষিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দেশের প্রতিটি উপজেলায় ডিলারশিপের মাধ্যমে কৃষকরা এখন সহজেই মানসম্পন্ন সার ও উন্নত জাতের বীজ সংগ্রহ করতে পারছেন।
ইতিমধ্যে ৫০টিরও বেশি উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার মধ্যে ব্রি ধান-৯২, ব্রি ধান-৯৩ এবং হাইব্রিড জাতগুলো কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কৃষি মন্ত্রণালয় ২০৪১ সালের মধ্যে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এজন্য কৃষি গবেষণায় আরও বিনিয়োগ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে জলবায়ু সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনে গবেষণা চলমান রয়েছে।




